আন্তর্জাতিক ডেস্ক: থাইল্যান্ডের চিকিৎসকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি অদ্ভুত বিশ্বাস-দায়িত্ব পালনের আগে কেএফসি খেলে হাসপাতালে রোগীর ভিড় বেড়ে যায়। এমনকি সহকর্মী চিকিৎসকের কেএফসি খাওয়াও অনেকের কাছে বিরক্তির কারণ। তবে এই বিশ্বাসের সত্যতা যাচাইয়ে পরিচালিত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস বুধবার (৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক দশক ধরে থাইল্যান্ডের চিকিৎসকদের মধ্যে এই ধারণা প্রচলিত। রাতের দায়িত্ব পালনের সময় সহজলভ্য হওয়ায় চিকিৎসকেরা প্রায়ই কেএফসি খেতেন। কোনো রাতে খাবার খাওয়ার পর রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ার কাকতালীয় ঘটনা থেকেই বিশ্বাসটির জন্ম বলে ধারণা করা হয়।
এ বিষয়ে ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ থাইল্যান্ডের ফাত্থালুং হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. থানাত তান্তিনামের নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রিত গবেষণা চালানো হয়। এতে পাঁচজন সাধারণ শল্যচিকিৎসকের ৩৪৫টি শিফট পর্যবেক্ষণ করা হয়।
চিকিৎসকদের তিনটি দলে ভাগ করা হয়। এক দল দায়িত্বের আগে কেএফসি, দ্বিতীয় দল স্থানীয় ব্র্যান্ড ফাইভ স্টার চিকেনের খাবার খান। তৃতীয় দল কোনো খাবার খাননি। রোগীর সংখ্যা, অস্ত্রোপচার, পরামর্শ ও রক্তক্ষরণের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
৩১৩টি শিফটের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কেএফসি খাওয়া চিকিৎসকদের প্রতি শিফটে রোগী সামলানোর মধ্যম সংখ্যা ১৬। অন্য দুই দলের ক্ষেত্রে তা ১৪। তবে এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নয়। অস্ত্রোপচারের সংখ্যা, সময় ও রক্তক্ষরণেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য মেলেনি।
‘অ্যানালস অব সার্জারি ওপেন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় অংশ নেওয়ার পর চিকিৎসকদের কুসংস্কারে বিশ্বাসও কমেছে। থাইল্যান্ডে কেএফসি কর্তৃপক্ষ এই বিশ্বাসকে বিপণন প্রচারণায়ও ব্যবহার করেছে।
জা.অর্থনীতি/এসআই
