Print Date & Time : 26 October 2026 Monday 02:29 pm

ইইউর গাড়িতে ২৫ শতাংশ শুল্কারোপ ট্রাম্পের

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। ট্রাম্পের দাবি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া পূর্বঘোষিত সম্পূর্ণ সম্মত বাণিজ্য চুক্তিটি যথাযথভাবে মেনে চলছে না। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই কঠোর পদক্ষেপ বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই শুল্ক যুদ্ধের সূত্রপাত গত বছরের জুলাই মাসে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন একটি বিশেষ বাণিজ্য চুক্তিতে একমত হয়েছিলেন। সেই চুক্তির আওতায় বেশিরভাগ পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রুলে জানায় যে, অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে ঢালাও শুল্কারোপ করার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক আইনি কর্তৃত্বের অভাব রয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে প্রাথমিক চুক্তিতে নির্ধারিত শুল্কের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নেমে আসে।

আইনি বাধার মুখেও পিছিয়ে না গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন এখন বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে। মূলত এই তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য আইনের দোহাই দিয়ে নতুন একগুচ্ছ আমদানি কর আরোপের পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের এই সর্বশেষ ঘোষণাটি মূলত সেই প্রক্রিয়ারই অংশ। যদিও ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ইইউ-এর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা আপত্তির কথা উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর এই অবস্থান ইইউ-এর সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তিকে সরাসরি লঙ্ঘনের ঝুঁকিতে ফেলেছে।

ট্রাম্পের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে ইউরোপের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেওয়া আগের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সুবিধা বজায় থাকলে ইউরোপের গাড়ি নির্মাতাদের প্রতি মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি ইউরো (প্রায় ৭০ কোটি ডলার) সাশ্রয় হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নতুন করে ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে সেই বিশাল আর্থিক সাশ্রয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাবে এবং মার্কিন বাজারে ইউরোপীয় গাড়িগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিশাল বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে এই সংঘাতের প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ইইউ-এর পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই দুই পক্ষের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার, যা দৈনিক গড়ে ৪৬০ কোটি ইউরোরও বেশি। এত বড় অঙ্কের বাণিজ্যে নতুন করে শুল্কের বাধা তৈরি হলে তা কেবল আটলান্টিক অঞ্চলের দুই পাড়েই নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং বাজার স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

জেএ/অভি