Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 05:29 am

পবিত্র কাবার যে ১৫টি স্থানে দোয়া কবুল হয়

image

দুনিয়াতে মুমিনের সবচেয়ে বড় তামান্না বা আকাঙ্ক্ষার নাম ‘বায়তুল্লাহ’ বা আল্লাহর ঘর। কাবা শরিফের কালো গিলাফ স্পর্শ করা কিংবা এক পলক দুচোখ ভরে দেখার তৃষ্ণা প্রতিটি মুসলিম হৃদয়ে আজীবন থেকে যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, পবিত্র কাবার আঙিনায় এমন কিছু বিশেষ স্থান রয়েছে যেখানে হাত তুললেই মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার দোয়া ফিরিয়ে দেন না?

আজকে আমরা জানবো কাবার সেই বিশেষ চত্বরগুলো এবং কাবা দর্শনের সুন্নাহ পদ্ধতি সম্পর্কে।

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ হলো, যখনই পবিত্র কাবা নজরে আসবে, তখনই এই দোয়াটি পাঠ করা:اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ وَمِنْك السَّلَامُ فَحَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ

আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালামু, ফাহাইয়্যিনা রাব্বানা বিসসালাম।

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমিই শান্তি বর্ষণকারী। তোমার পক্ষ থেকেই শান্তি অবতীর্ণ হয়। অতএব, হে আমাদের রব, আমাদের শান্তির সঙ্গে জীবিত রাখুন। (বায়হাকি)

বর্ণিত আছে, বায়তুল্লাহর ওপর প্রথম নজর পড়ার পর যে দোয়া করা হয়, আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করে নেন।

পবিত্র হারাম শরিফের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে বরকত। বিশেষভাবে যে ১৫টি স্থানে দোয়া কবুলের বর্ণনা পাওয়া যায়, সেগুলো হলো:

১. কাবা ঘর দেখামাত্র যে কোনো নেক দোয়া করা।

২. আল্লাহর ঘরের প্রধান দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে মোনাজাত করা।

৩. কাবার দরজা থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত মধ্যবর্তী স্থানটি হলো মুলতাজাম। এখানে বুক ও গাল লাগিয়ে দোয়া করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

৪. কাবার উত্তর দিকে অর্ধবৃত্তাকার দেওয়ালঘেরা অংশটি মূলত কাবারই অংশ। এর ভেতরে দোয়া কবুল হয়।

৫. হাতিমের ভেতরে কাবার ছাদের পানি পড়ার যে নালা রয়েছে, তার নিচে দাঁড়ানো।

৬. যে পাথরে দাঁড়িয়ে হজরত ইবরাহিম (আ.) কাবা নির্মাণ করেছিলেন, তার কাছে দোয়া করা।

৭. কাবার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণটি হলো রুকনে ইয়ামানি। এখানে দোয়া ও জিকির দ্রুত কবুল হয়।

৮. হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানির মধ্যবর্তী স্থান। তাওয়াফকালে এই অংশে দোয়া করা সুন্নাহ।

৯. জমজম কূপের কাছে দোয়া করা। বর্তমানে কূপ সরাসরি দেখা না গেলেও মাতাফের বেইজমেন্টে এর অবস্থান।

১০. জমজমের পানি পানের সময় দোয় কবুল হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, জমজমের পানি যে নিয়তে পান করা হয়, তা-ই পূর্ণ হয়।

১১. কাবার চারপাশে তাওয়াফের মূল চত্বরে।

১২. সাফা ও মারওয়া পাহাড় এই দুই পাহাড়ের চূড়ায় উঠে কাবার দিকে ফিরে দোয়া করা।

১৩. সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী যাতায়াতের পথে দোয়া কবুল হয়।

১৪. মিলাইনে আখজারাইন এই দুই পাহাড়ের মাঝে সবুজ বাতি চিহ্নিত ৪০ গজ জায়গা।

১৫. মাথা মুণ্ডন বা চুল কাটার সময়। হজ বা উমরা শেষে যখন ইহরাম ত্যাগ করা হয়, সেই মুহূর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পবিত্র কাবা কেবল একটি ইমারত নয়, এটি আসমান ও জমিনের সেতুবন্ধন। এই পবিত্র স্থানগুলোতে যাওয়ার সুযোগ হলে আমাদের উচিত দুনিয়াবি চিন্তা ঝেড়ে ফেলে বিনয় ও ভক্তির সঙ্গে রবের কাছে দুহাত পাতা। মনে রাখবেন, আল্লাহ তাঁর ঘরে আসা মেহমানদের শূন্য হাতে ফেরাতে পছন্দ করেন না।

 

 জা. অর্থনীতি/ উমর