Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 03:32 pm

ই-টিকিটিং ও বক্স অফিস চালু করছে সরকার

image

বিনোদন প্রতিবেদক: সমাজের চলমান ঘটনাকে বিষয় হিসেবে নির্বাচন করা হয় চলচ্চিত্রে। সমাজ পরিবর্তনের ‘হাতিয়ার’ বলা হয় সিনেমাকে। অথচ, এই মাধ্যম ঘিরে নানা অব্যবস্থাপনা। একটি সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নানা কাঠ-খড় পুড়িয়ে তারপর সেই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। এবার দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে এবং ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিনেমা হলকে একটি কেন্দ্রীয় সার্ভারের আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশজুড়ে ই-টিকিটিং ও বক্স অফিস ব্যবস্থা চালু করা হবে। 

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন প্রায় ৫০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করেছে। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানি জানিয়েছেন, চলচ্চিত্র শিল্পে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এ বিষয়ে ইতিবাচক মত দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিপিপি জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আগামী ঈদুল আজহার আগেই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন অনুবিভাগে জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় কম রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এফডিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ন্যূনতম ব্যয়ে পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। 

ডিপিপি তৈরির আগে সিনেমা হল মালিক, পরিচালক, প্রযোজক ও অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে এফডিসি। সংশ্লিষ্ট প্রায় সবাই কেন্দ্রীয় বক্স অফিস চালুর পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানা গেছে। 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিপিপি জমা হওয়ার পর তা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সভায় পর্যালোচনা করা হবে। পরে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। অনুমোদন মিললে দেশব্যাপী ই-টিকিটিং ও কেন্দ্রীয় বক্স অফিস বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে এফডিসি। 

ডিপিপিতে কী থাকছে: ‘সেন্ট্রাল সার্ভার, ই-টিকিটিং এবং বক্স অফিস স্থাপন’ শীর্ষক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) কী থাকছে? জানতে চাইলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) কামাল মোহাম্মদ রাশেদ জানান, দেশের সব সিনেমা হলকে একটি কেন্দ্রীয় প্রযুক্তি ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে প্রধানত চারটি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। যেমন, ১. এফডিসিতে একটি কেন্দ্রীয় সার্ভার স্থাপন। ২. ধাপে ধাপে সব সিনেমা হলে ই–টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা। ৩. পাইরেসি ঠেকাতে বিশেষ ডিভাইস বসানোর পরিকল্পনা। ৪. বক্স অফিস চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কোন সিনেমা কত আয় করছে, কোন ছবি শীর্ষে আছে—এসব তথ্য প্রকাশ করা হবে। 

বক্স অফিস ও ই-টিকিটিং কী: বক্স অফিস মানে সিনেমা হলের টিকিটঘর। কোনো চলচ্চিত্রের লাভ কিংবা লোকসান—সবটাই টিকিট বিক্রির ওপর নির্ভর করে। টিকিট বিক্রির ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত সিনেমার আয়ের হিসাব-নিকাশ ‘বক্স অফিস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। হলিউড, বলিউডে বক্স অফিস কার্যকর রয়েছে। তবে দেশে এখনো বক্স অফিস চালু হয়নি। 

দেশের গুটিকয় মাল্টিপ্লেক্সে অনলাইনে টিকিট কাটা যায়, যেটি ই-টিকিট নামে পরিচিত। একক সিনেমা হলগুলোয় এখনো হাতে হাতে টিকিট বিক্রি হয়। ফলে, কোন শোতে কত টিকিট বিক্রি হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট করে জানার কোনো সুযোগ নেই। 

সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলচ্চিত্রের জন্য এর চেয়ে ভালো খবর আর হতে পারে না। তবে, ই–টিকিটিং কার্যকর করার জন্য একক সিনেমা হলগুলোর উন্নয়ন দরকার বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, ই–টিকিটিং ও বক্স অফিস চালু করলে প্রযোজক ও হলমালিক—উভয় পক্ষের জন্য ভালো হবে। 

—জা. অর্থনীতি/এনএ