Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:39 am

পক্ষাঘাতগ্রস্ত শ্বশুরকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ‘সাইকো কিলার’ পুত্রবধূ

image
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের রাঁচিতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত শ্বশুরকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ মে) ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় রোববার বিদ্যানগর এলাকা থেকে অভিযুক্ত পুত্রবধূ নিকিতাকে আটক করা হয়।

ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির নাম ডা. কে পি গুপ্ত। তিনি রাঁচির পরিচিত একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। কয়েক মাস আগে অসুস্থ হয়ে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন তিনি।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুরে পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসার বাইরে থাকাকালে শ্বশুরের ওপর হামলা চালান নিকিতা। অভিযোগ রয়েছে, বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় নিহতের স্ত্রী ছেলেকে খাবার দিতে দোকানে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিকিতা ও তার শ্বশুরের মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো। নিহতের ছেলে সৌরভ অভিযোগ করেছেন, হত্যার পর তার স্ত্রী আলামত নষ্ট করারও চেষ্টা করেন। তার দাবি, ঘটনার সময় ব্যবহৃত রক্তমাখা বালিশ বাসার ছাদে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে সেটি উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাও নষ্ট করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

২০২৫ সালের নভেম্বরে নিকিতার সঙ্গে সৌরভের বিয়ে হয়। সৌরভ পুলিশকে জানান, বাবার শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখতে বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। শনিবার দোকানে বসে লাইভ ফুটেজে তিনি দেখতে পান, তার স্ত্রী ও বাবার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। বিষয়টি দেখে দ্রুত বাড়িতে ছুটে যান তিনি। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই মারা যান তার বাবা।

পুলিশ স্টেশনের বাইরে সংবাদমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন সৌরভ। তিনি স্ত্রীকে ‘সাইকো কিলার’ আখ্যা দিয়ে কঠোর শাস্তির দাবি জানান। তার অভিযোগ, অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তার বাবাকে।

পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে পাঠিয়েছে। এ ছাড়া বাসার সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ফুটেজে অভিযুক্ত নারীকে ওই কক্ষে প্রবেশ ও বের হতে দেখা গেছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

—জা. অর্থনীতি/এআইই