Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:02 am

‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’র নির্দেশ দিয়ে ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করলো মেটা

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রথমে দেওয়া হয়েছিল একটি সাধারণ নির্দেশনা, সেদিন বাসা থেকে কাজ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের অফিসে না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ফলে অফিসে কোনও আলোচনা, গুঞ্জন বা করিডোরে দৃশ্যমান কোনও উদ্বেগ ছিলো না। কিন্তু এর পরই শুরু হলো ইমেইল আসা। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মস প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে, যা তাদের মোট কর্মশক্তির প্রায় ১০ শতাংশ। প্রথম ছাঁটাই বার্তা আসে সিঙ্গাপুর অফিস থেকে। 

ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুরের ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা স্থানীয় সময় ভোর ৪টায় (ভারতীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে) ইমেইল পেয়েছেন। বিভিন্ন টাইম জোন বা অঞ্চল অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এই নোটিফিকেশন পাঠানো হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ ধরন ছিল: প্রথমে ঘরে বসে কাজের নির্দেশ, এরপরই ছাঁটাই।

এই প্রক্রিয়ার আগে মেটার কর্মী সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৮,০০০। এখন হাজার হাজার কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন এবং আরও হাজার হাজার কর্মীকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ এক বার্তায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা জানেল গেইল জানান, ৭ হাজার কর্মীকে নতুন এআই-নির্ভর দলে পুনর্বিন্যাস করা হবে। একইসঙ্গে প্রায় ৬ হাজার খালি পদ বাতিল করা হয়েছে এবং ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তরও কমানো হচ্ছে। 

তিনি বলেন, এখন আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে ছোট ছোট টিম ও ফ্ল্যাট কাঠামো নিয়ে দ্রুত এবং আরও বেশি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করা সম্ভব।

গত মাসে তথ্য ফাঁস হওয়ার পর মেটা এই ছাঁটাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। এর ফলে কোম্পানির ভেতরে কর্মীদের মনোবল মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ে। জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই কিছু কর্মী বিনামূল্যে পাওয়া স্ন্যাক্স এবং অতিরিক্ত ল্যাপটপ চার্জার সংগ্রহ করতে শুরু করেন।

একই সময়ে খবর আসে যে, এআই সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দিতে সাহায্য করার জন্য একটি নতুন অভ্যন্তরীণ টুল কর্মীদের মাউসের নড়াচড়া ও কি-বোর্ডের কি-স্ট্রোক ট্র্যাক করছে। এই পদক্ষেপটি কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ট্র্যাকিংয়ের বিরোধিতা করে ১,০০০-এরও বেশি কর্মী একটি আবেদনে স্বাক্ষর করেন।

কর্মীদের অনেকের মতে, ঘরে বসে কাজের (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) আদেশটি দেওয়া হয়েছিল যাতে ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়াটি নিঃশব্দে সম্পন্ন করা যায়। কোনও হইচই, জমায়েত বা দৃশ্যমান অশান্তি ছাড়াই যেন সব শেষ হয়। তবে এই চিত্রটি শুধু মেটার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, পুরো প্রযুক্তি খাতেই এই ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রোডাক্ট টিমগুলো এই ছাঁটাইয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি বছরের শেষের দিকে আরও ছাঁটাই হতে পারে। মেটার শীর্ষ পর্যায়ে মার্ক জাকারবার্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে কোম্পানির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। মেটা জানিয়েছে, তারা এই বছর প্রধানত এআই খাতেই ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে।

প্রসঙ্গত গত সপ্তাহে সিসকো সিস্টেমস ৪,০০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে। মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, ডিজনি এবং এএসএমএল সব কোম্পানিই ছাঁটাই বা স্বেচ্ছায় অব্যাহতির ঘোষণা দিয়েছে। গত এপ্রিলে ওরাকল বিশ্বজুড়ে ভোরবেলার ইমেইলের মাধ্যমে আনুমানিক ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ কর্মী ছাঁটাই করে। 

সূত্র: এনডিটিভি

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি