বিনোদন ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে গোটা দেশ। শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও নানা মন্তব্য করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনক চাঁপা এ ঘটনায় তার ফেসবুকে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে, রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা (৩০) দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কনক চাঁপা লিখেন, ‘বাংলাদেশ পেডোফাইল দিয়ে ভরে গেছে সমাজ কি তা উপলব্ধি করে? এই যে ধর্ষণ হয়, ধর্ষনকারী ধরা পড়ে, নিজে স্বীকার করে তারপর তার শাস্তি দিতে দেরি হবে কেনো? ধর্ষনকারীর পক্ষ নেওয়ার জন্য উকিল থাকে তিনি কেমন উকিল? জানি ভয়ংকর অপরাধীরও আইনগত অধিকার আছে একজন আইনজীবী পাওয়ার, না হলে বিচার একপেশে হয় কিন্তু আমার কথা আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয়। যে উকিল অপরাধীর পক্ষ ধরে তার কন্যা স্ত্রী ভাগনীর সাথে যদি এমন হয় তখনো তিনি শুধু একটা কাজের সেগমেন্ট হিসেবে অপরাধীর পক্ষ নেবেন? বিবেক এখানে কোনো কাজ করে না?’
তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চাটার সাথে যখন জঘন্যতম কাজ হচ্ছিলো তখন তার স্ত্রীর কাজ কি ছিলো? এমনিতে তো মহিলা সতীনের ছায়া মাড়ায় না , তার মানে সেও পেডোফাইল? সে ওই নারকীয় কাজ এনজয় করছিলো? অপরাধী গ্রীল কাটার যন্ত্র কোথায় পেলো? নাকি সে সিরিয়াল কিলার? আরেকটা বাচ্চাকে যে অনেক দিন ধরে অত্যাচার করা হচ্ছিলো, গা ব্লেড দিয়ে কেটে মরিচ নুন লাগিয়ে দিতো সেখানে তার আপন মা দুই খালা আপন বোন এবং খালাতো বোন এবং বাবা সেজে যে অমানুষ এক ঘরে ঘুমাতো তারা কি গ্রুপে অনৈতিক কাজ করতো? এগুলো বাংলাদেশের মানুষ কবে শিখলো?
প্রশ্ন তুলে কনক চাঁপা বললেন, ‘অথবা তারা কি করতো যেটার জন্য বাচ্চাটার উপর এতো অত্যাচার করতে হতো? যে লোকটা বাবা সেজে ছিলো সে মোটেও পাঁচজন মহিলাকে সামাল দেওয়ার মতো প্লেবয় না। সে এক মধ্যবয়সী বুড়ো। তাদের কাজ কী ছিলো? আপন মা হয়ে ব্লেড দিয়ে কেটে মরিচ নুন মাখানোর মতো ভয়ানক পৈশাচিক কর্মকাণ্ড করার মতো মানসিকতা কোথা থেকে এলো?
হতাশা প্রকাশ এবং বিচার চেয়ে তিনি বলেন, ‘এ কোন বাংলাদেশ? কেমন বাংলাদেশের অধিবাসী? এগুলোর বিচার চাইতে অসহায় মানুষ বিচারালয়ের বারান্দায় বছর ধরে কতোদিন ঘুরবে? রাষ্ট্রের কাছে চাওয়া একটাই জনসমক্ষে বিচার চাই। জনসমক্ষে মানে একদম লোকালয়ে বিচার চাই।তাইলে যদি অপরাধী ভয় পায়। মানুষ সামান্য তেলে পাকানো জালিবেতকেই ভয় পায় আর সত্যিকারের ফাঁসির রশিকে ভয় পাবে না এটা বিশ্বাস যোগ্য নয়।’
—জা. অর্থনীতি/এনএ