Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 10:28 pm

ফলের বাজারে উপচে পড়া ভিড়, দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

image

যশোর প্রতিনিধি: জ্যৈষ্ঠের মধুমাসে যশোরের বাজারগুলোতে এখন দেশি ফলের ব্যাপক সমারোহ। চারদিকে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, লটকন ও তালের শাঁসের মিষ্টি সুবাস এবং বাজারে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের চর্বিযুক্ত ও মসলাদার খাবার খাওয়ার পর শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখতে অনেকেই ঝুঁকছেন ফলমূলের দিকে।

চিকিৎসকেরাও অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার পর বেশি করে ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে দাম কিছুটা চড়া হলেও পরিবার নিয়ে ফল কিনতে বাজারে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ। তবে মধুমাসের এই আনন্দের মধ্যেও ফলের চড়া দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

যশোর শহরের মণিহার, চৌরাস্তা, দড়াটানা, রেলগেট ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের চাপ লেগেই থাকছে।

বর্তমানে যশোরের বাজারে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গোপালভোগ আম ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং আম্রপালি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

আমের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে এলেও অন্যান্য ফলের দাম বেশ চড়া। বাজারে প্রতি ১০০টি লিচু ৩৬০ থেকে ৭০০ টাকা, বোম্বাই জাম ও কালোজাম ২০০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি, সবেদা ১২০ টাকা, পেয়ারা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কলা প্রতি ডজন ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রতি পিস ডাব ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, তরমুজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ডেঁয়ো ফল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি এবং লটকন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁঠাল আকারভেদে ১০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং তালের শাঁস প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

আমে স্বস্তি ফিরলেও অন্যান্য ফলের এই চড়া দামে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজার করতে আসা শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, "আমের দাম কমেছে এটা ভালো খবর। কিন্তু লিচু, জাম, ডাব আর কলা কিনতে গেলেই পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।"

বাজারে এত ফলের সরবরাহ থাকার পরও বেশির ভাগ ফল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মুজিব সড়ক এলাকার সেলিনা শুভ্রা। চৌরাস্তা বাজারে ফল কিনতে আসা জাহিদুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আগে যে পরিমাণ ফল ৫০০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে প্রায় দ্বিগুণ টাকা লাগছে।

বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দড়াটানা মোড়ের ফল বিক্রেতা কল্লোল হোসেন এবং চৌরাস্তা মোড়ের কাওছার আলী জানান, রাজশাহী ও দিনাজপুর থেকে প্রতিদিন প্রচুর ফল আসছে। সরবরাহ বাড়ার কারণে গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় আমের দাম অনেকটা কমলেও কিছু ফলের উৎপাদন কম থাকায় সেগুলোর দাম এখনও বেশি। ফল ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর গরমে তরল খাবারের পাশাপাশি ফলের চাহিদা বাড়ায় প্রতিদিন আগের তুলনায় বিক্রি প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

ব্যবসায়ীদের হিসাব অনুযায়ী, যশোর শহরের ছোট-বড় বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি টাকারও বেশি ফল বেচাকেনা হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু মণিহার, চৌরাস্তা, দড়াটানা ও পালবাড়ি এলাকার প্রধান বাজারগুলোতেই দৈনিক বিক্রির পরিমাণ ৫০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আমের উৎপাদন ভালো হওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি, বাজার খাজনা এবং ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির কারণে অন্যান্য ফলের দাম কিছুটা বেশি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

মৌসুমি ফলের বাজারের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করেছে প্রশাসন। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান বলেন, "ফলের বাজার নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা অযৌক্তিকভাবে অতিরিক্ত দাম আদায় করতে না পারেন, সেদিকে কঠোর নজর রাখা হচ্ছে। কেউ নিয়ম লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

—জা. অর্থনীতি/এলএটি