সোহম দে: ফুটবল নিছক একটা খেলা নয়; বরং সেটা সভ্যতার আবেগ, মানুষের স্বপ্ন, পরাজয়ের অন্ধকার ভেদ করে উঠে দাঁড়ানোর এক অনিবার্য মহাকাব্য। যুগে যুগে বহু প্রতিভাবান ফুটবলারের আবির্ভাব ঘটেছে, বহু কিংবদন্তি ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম চিরস্মরণীয় করে রেখেছেন। কিন্তু এর মধ্যেও কয়েকজন ফুটবলার এমন আছেন, যারা শুধুই কিংবদন্তি নন— তারা হয়ে উঠেছেন এক একটি যুগের প্রতীক, কোটি মানুষের আশা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতিচ্ছবি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ঠিক তেমনই এক নাম, যার জীবন কাহিনি শুধুমাত্র ফুটবলের পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না; বরং তা এক অনমনীয় আত্মশক্তি, অক্লান্ত সাধনা ও অবিনাশী মানসিকতার জীবন্ত দলিল।
৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫। পর্তুগালের ছোট্ট দ্বীপ মাদেইরার রাজধানী ফুঞ্চালের সাও পেদ্রোর এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিল এক ফর্সা, রোগাসোগা ছেলে। বাবা জোসে ডিনিস অ্যাভেইরো ছিলেন মালী। মা মারিয়া ডলোরেস অ্যাভেইরো রান্নার এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কারের কাজ করতেন। দারিদ্র্য মানুষকে শুধু ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করায় না, কখনও কখনও নিজের স্বপ্ন, নিজের মাতৃত্ব, এমনকি নিজের সন্তানের বিরুদ্ধেও দাঁড় করিয়ে দেয়। মারিয়া ডলোরেস তখন ক্লান্ত এক মা। সংসারে অভাব, ঘরে অনিশ্চয়তা, চোখের সামনে অন্ধকার ভবিষ্যৎ। এমন পরিস্থিতিতে চার নম্বর সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সাহস তার ছিল না। তাই রোনালদোকে গর্ভে ধারণ করার পর তিনি চেয়েছিলেন গর্ভপাত করতে। নিজের চেনা ডাক্তারের কাছে গিয়েও তিনি কাতর আর্তনাদ করতে থাকেন যে, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি আর এক সন্তানকে এই পৃথিবীতে আনতে চান না। কিন্তু ভাগ্য যেন সেদিন অন্য গল্প লিখতে বসেছিল। সেই ডাক্তার তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন— ‘এই শিশুকে বাঁচতে দিন।’ সেদিন কেউ জানত না, ডাক্তারের এই পরামর্শ শুধু অ্যাভেইরো পরিবারের ইতিহাস নয় বরং ফুটবল খেলাটাকেও চিরতরে পাল্টে দেবে। মারিয়া ডলোরেস তো শুধু একটি শিশুকে নয়, জন্ম দিয়েছিলেন ফুটবলের অন্যতম সোনালি এক যুগকে। জন্ম দিয়েছিলেন এক গোটা প্রজন্মের অনুপ্রেরণাকে। যে শিশুকে দারিদ্র্য পৃথিবীর আলো দেখতে দিতে চাইছিল না, সেই শিশুই আজ অগুণতি মানুষের জীবনে আলো হয়ে উঠেছে।
রোনালদো অভাবের ঘরে জন্মেছিলেন ঠিকই। তার ছেলেবেলা হয়তো কেটেছে ছোট্ট একটা ঘরে। বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের ড্রিবল করে গোল করা নয়। সেই সময় তার সংগ্রাম ছিল দিনে একদানা ভাত খেতে পাওয়া। কিন্তু রোনালদোর স্বপ্নের উচ্চতা যে ছিল আকাশের থেকেও বড়। তাই তো তিনি প্রমাণ করেছেন—মানুষ কোথা থেকে এসেছে, সেটি বিশ্ব মনে রাখে না; মানুষ কোথায় পৌঁছেছে, সেটাই বিশ্ব মনে রাখে। ভাবুন তো, যদি সেদিন সেই ডাক্তার ‘হ্যাঁ’ বলে দিতেন, তাহলে হয়তো ফুটবল কখনও তার সবচেয়ে বড় যোদ্ধাকে পেত না। হয়তো লাখ লাখ দরিদ্র ছেলে বিশ্বাস করতেই শিখত না যে, একজোড়া ছেঁড়া জুতা পরেও পৃথিবীর শীর্ষে পৌঁছানো যায়। এই কারণেই বোধ হয় রোনালদোকে শুধু একজন ফুটবলার বললে ভুল বলা হবে। কারণ তিনি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সেই উত্তর, যা জীবনে প্রতিটি অসহায় মানুষকে শেখায়— ‘তোমার বর্তমান তোমার ভাগ্য নয়।’
স্থানীয় ক্লাব অ্যান্ডোরিনহার কিটম্যান ছিলেন জোসে অ্যাভেইরো। ছোট্ট রোনালদোকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে যেতেন তিনি। এমনভাবেই রোনালদোর জীবনে প্রবেশ করে ফুটবল নামক দ্য বিউটিফুল গেম। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ অ্যান্ডোরিনহায় খেলেছিল মাদেইরার সেই কিশোর। পরে ন্যাশিওনালেও বেশ কিছুদিন খেলেছিল রোনালদো। তবে এমন সময়ে ফুটবল-পাগল ছেলেটার কাছে প্রস্তাব এলো পর্তুগালের অন্যতম বিখ্যাত ক্লাব স্পোর্টিং লিসবনে ট্রায়াল দেওয়ার। তিনদিনের ট্রায়ালের পর স্পোর্টিং লিসবনে প্রথম পেশাদার ফুটবলের চুক্তিতে সই করে রোনালদো। ব্যস আর তাতেই শুরু হলো রূপকথার এক সফর। সেই কিশোরটির শৈশব ছিল অভাব, সংগ্রাম ও অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ। কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো— মহত্ত্ব কখনও বিলাসিতার গর্ভে জন্ম নেয় না; তা জন্ম নেয় প্রতিকূলতার গভীর অন্ধকারে। ছোটবেলায় যে ছেলেটি ছেঁড়া বল নিয়ে রাস্তায় খেলত, স্পোর্টিং লিসবন থেকে শুরু করে আল নাসের– ৪০ বছর বয়সেও সেই ছেলেই বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করবে— এমন কল্পনা হয়তো তখন অসম্ভব বলেই মনে হতো। অথচ আজ ফুটবলের অভিধানে ‘অধ্যবসায়’ শব্দটির প্রতিশব্দ যেন হয়ে উঠেছেন রোনালদো। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড হোক কী রিয়াল মাদ্রিদ। জুভেন্তাস হোক কী আল নাসের। প্রতিটা ক্লাব জার্সিতেই নিজের সেরাটা দিয়েছেন রোনালদো। গোলের পর গোল। ট্রফির পর ট্রফি। রেকর্ডের পর রেকর্ড। পাঁচ পাঁচটা ব্যালন ডি’অর। রোনালদোর ফুটবল ক্যারিয়ার প্রায় প্রতিটা এভারেস্ট জয় করেছে। হার না মানা মানসিকতা। লড়াই করার অদম্য জেদ। অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখানো। রোনালদোর ফুটবল ক্যারিয়ার মানে ঠিক তাই। জাদুর সব মুহূর্ত উপহার দিয়েই রোগাসোগা সেই মাদেইরার ছেলেটা হয়ে উঠেছেন সিআর সেভেন। সাত নম্বর জার্সি পরে আজও তিনি মাঠে নামলে গ্যালারি স্বপ্ন দেখে তারা ইতিহাসের সাক্ষী থাকবে।
পর্তুগালের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলেও সিআর সেভেনের পরিসংখ্যান শুধুমাত্র বিস্ময়কর নয়, প্রায় অলৌকিক। জাতীয় দলের হয়ে ২২৬ ম্যাচে ১৪৩ গোল— আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার আসনে তার একক আধিপত্য। পাঁচটি বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জনকারী প্রথম ফুটবলারও তিনি। ইউর চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বাধিক গোল, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সর্বাধিক জয়— পরিসংখ্যানের প্রতিটি স্তম্ভে যেন তার নাম খোদাই করা। ২০১৬ সালে তার নেতৃত্বে পর্তুগালের ইউরো জয় ছিল এক ঐতিহাসিক অধ্যায়, যেখানে ছোট্ট একটি দেশ তার অদম্য মানসিকতার অনুপ্রেরণায় সমগ্র ইউরোপকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ২০১৯ সালে উয়েফা নেশনস লিগ জয় সেই গৌরবকে আরও সুদৃঢ় করে।
এত সাফল্য, এত স্বর্ণালি অধ্যায়ের মাঝেও এক অপূর্ণতার দীর্ঘশ্বাস তাকে আজও অনুসরণ করে। সেই অপূর্ণতার নাম— ফিফা বিশ্বকাপ।
বিশ্বকাপ এমন এক মঞ্চ, যেখানে কিংবদন্তিদের যাত্রাও কখনও কখনও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। পেলের গোল, দিয়েগো ম্যারাডোনার চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিং, লিওনেল মেসির মানব থেকে অতিমানবে পরিণত হওয়া— বিশ্বকাপ যেন মহত্ত্বের চূড়ান্ত স্বীকৃতি। আর সেই কারণেই প্রতিটা সিআর তথা ফুটবল সমর্থক আজও রোনালদোর হাতে সেই ঐতিহাসিক ট্রফিটা দেখার স্বপ্ন লালন করে চলেছেন। ২০০৬ সালের জার্মানিতে হওয়া বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সেই বিশ্বমঞ্চে নিজের প্রতিভার প্রদর্শনী দেন তরুণ রোনালদো। তখন তার চোখে ছিল তীব্র ক্ষুধা, নিজের সামর্থ্যকে বিশ্বের সামনে প্রতিষ্ঠিত করার অগ্নিসংকল্প। সেই বিশ্বকাপে পর্তুগাল সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছলেও জিনেদিন জিদানের ফ্রান্সের বিরুদ্ধে স্বপ্নভঙ্গ ঘটে। কিন্তু সেই ব্যর্থতার মধ্যেও ফুটবলবিশ্ব সাক্ষী থেকেছিল এক নতুন তারকার উত্থানের।
২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে রোনাল্ডো তখন আরও পরিণত, আরও ভয়ংকর। কিন্তু ফুটবলে ব্যক্তিগত প্রতিভা হার মেনেছে দলগত খেলার বিরুদ্ধে। সেই বিশ্বকাপেও স্পেনের তিকিতাকার বিরুদ্ধে ম্লান হয়ে শেষ ষোলোয় বিদায় হয় পর্তুগালের। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে চোট ও দুর্বল স্কোয়াডের বোঝা কাঁধে নিয়েও সিআর সেভেন লড়াই করেছিলেন, কিন্তু ভাগ্য তখনও তার প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল না। গ্রুপ পর্বেই বিদায় হয় পর্তুগালের। জার্মানির বিরুদ্ধে ০-৪ হার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র পর্তুগালের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন শেষ করেছিল। ঘানাকে ২-১ হারালেও গোলপার্থক্যে আর শেষ ষোলোয় পৌঁছতে পারেনি রোনাল্ডো অ্যান্ড কোম্পানি।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে স্পেনের বিরুদ্ধে পর্তুগালের সেই ৩-৩ ড্র ম্যাচে রোনালদোর অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক সমগ্র বিশ্বকে নতুন করে বিস্মিত করেছিল। ৩৩ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি যেন সময়কেও চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। তার ফ্রি-কিকের সেই মুহূর্ত আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দৃশ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। সেদিন মনে হয়েছিল— হয়তো ভাগ্য এবার তার জন্য নতুন কোনো মহাকাব্য লিখতে চলেছে। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস আবারও তাকে অপূর্ণ রেখেছিল। শেষ ষোলোয় উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-২ হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় পর্তুগাল।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপ ছিল তার আর এক সুযোগ। তখন রোনালদোর শরীরে বয়সের ছাপ স্পষ্ট, কিন্তু মানসিক দৃঢ়তা ছিল আগের মতোই অবিচল। সমালোচকরা তাকে ফুরিয়ে যাওয়া অধ্যায় বলে ব্যাখ্যা করছিলেন, অথচ তিনি তখনও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়ে একই তীব্র আবেগে লড়াই করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু মরক্কোর কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হারের পর টানেল দিয়ে অশ্রুভেজা চোখে রোনালদোর ড্রেসিংরুমে ফিরে যাওয়ার দৃশ্যটি যেন ফুটবলের এক গভীর ট্র্যাজেডি হয়ে রয়ে গেল।
কারণ সেই দিন শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড় পরাজিত হননি; ভেঙে পড়েছিল কোটি মানুষের স্বপ্ন, এক গোটা প্রজন্মের আবেগ।
রোনালদোকে নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। কেউ তাকে অহংকারী বলেন, কেউ তাকে শুধু পরিসংখ্যানের পেছনে ছুটে চলা এক যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় পরিচয় পরিসংখ্যান নয়; তার প্রকৃত পরিচয় তার অবিশ্বাস্য কর্মনিষ্ঠা। প্রতিদিন নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার যে নিষ্ঠা তিনি প্রদর্শন করেছেন, তা আধুনিক ক্রীড়া জগতের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যেখানে অধিকাংশ খেলোয়াড় সাফল্যের শিখরে পৌঁছে আত্মতুষ্টিতে ভোগেন, সেখানে রোনালদো প্রতিটি সাফল্যের পরেও নিজেকে আরও কঠোর পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছেন। সিআর সেভেনের জীবন প্রমাণ করে— প্রতিভা মানুষকে প্রচার দেয় ঠিকই, কিন্তু পরিশ্রমই মানুষকে অমরত্ব দেয়। হয়তো সেই কারণেই ফুটবলপ্রেমীরা তাকে বিশ্বকাপ জিততে দেখতে মরিয়া। কারণ কিছু স্বপ্ন ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করে মানবিক আবেগে পরিণত হয়। রোনালদোর বিশ্বকাপ জয় শুধু একটি ট্রফি জয়ের ঘটনা হয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সেটি হবে দীর্ঘ সংগ্রামের পরম পরিণতি, অবিশ্বাসের বিরুদ্ধে আত্মবিশ্বাসের বিজয় এবং অবিনাশী মানসিক শক্তির সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।
রোনালদো আজ নিজেই এক স্বতন্ত্র ভূখণ্ড, এক আবেগময় রাষ্ট্রের নাম। বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মানুষ যেন তার অদৃশ্য পতাকার নিচে একত্রিত হয়েছে। কেউ তার খেলা অনুকরণ করে, কেউ তার উদযাপন, কেউ তার শৃঙ্খলা, আবার কেউ তার অবিনাশী আত্মবিশ্বাসকে জীবনের মন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে। ‘সিউউ’ উচ্চারণ আজ শুধুমাত্র এক গোল উদযাপন নয়; তা যেন এক প্রজন্মের সম্মিলিত আবেগের প্রতিধ্বনি। এক সময় পর্তুগাল ছিল ইউসেবিও কিংবা লুইস ফিগোর দেশের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ— একটি সম্মানিত ফুটবল ঐতিহ্যের জাতি। কিন্তু রোনালদোর আবির্ভাবের পর পর্তুগাল যেন ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে এক বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক বিস্ময়ে পরিণত হয়েছে। আজ পৃথিবীর অসংখ্য শিশুর কাছে পর্তুগালের মানচিত্রের প্রথম পরিচয়ই রোনালদো। তিনি শুধু দেশের জার্সি পরেননি; তিনি নিজের ব্যক্তিত্ব, শ্রম, সাফল্য ও অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষা দিয়ে সমগ্র একটি জাতির পরিচয়কেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তাই অনেকের কাছেই তিনি আর শুধু একজন মানুষ নন— তিনি এক অনুভূতির নাম, এক বিশ্বাসের নাম, এক অন্তহীন প্রেরণার সাম্রাজ্য।
অনেক সময় মনে হয়, বিশ্বকাপ ট্রফিটির মহিমা যেন রোনালদোর হাতেই আরও পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। কারণ কিছু মানুষ ট্রফিকে গৌরবান্বিত করেন, ট্রফি তাদের নয়। রোনালদো সেই বিরল ব্যক্তিত্বদের একজন, যার স্পর্শে অর্জনও নতুন অর্থ লাভ করে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান হতে পারে, কিন্তু রোনালদোর মতো এক অনমনীয় যোদ্ধার হাতে সেটি ধরা পড়লে তা কেবল একটি ক্রীড়া সাফল্য হয়ে থাকবে না; তা পরিণত হবে মানবিক অধ্যবসায়, আত্মনিবেদন ও অদম্য সংকল্পের চিরন্তন প্রতীকে। যেন ফুটবল নিজেই অপেক্ষা করে আছে সেই দৃশ্যের জন্য— যেখানে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী মহাতারকা অবশেষে দু’হাতে তুলে ধরছেন সেই সোনালি স্বপ্নকে। কারণ কখনও কখনও মনে হয়, রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জয় নয়; বরং বিশ্বকাপেরই সৌভাগ্য হবে রোনালদোর স্পর্শ পাওয়ার।