Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 12:34 pm

সরকারের ১০ অগ্রাধিকারকে ভিত্তি করে বাজেট

image

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি এবং জ্বালানি নিরাপত্তাসহ ১০টি প্রধান অগ্রাধিকারকে সামনে রেখে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করেছে সরকার। 

সব জনগোষ্ঠী, সব শ্রেণি ও দেশের সব অঞ্চলের সুষম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারের দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণও বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে সব বয়সী নাগরিকের জন্য কল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বিনিয়োগনির্ভর, কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলাকে চতুর্থ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছে সরকার। পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ এবং কৃষিকে কৌশলগত খাত হিসেবে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী পরিবেশ গড়ে তুলতে বিধিনিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বা ডিরেগুলেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সেবায় বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানোর কথাও বলা হয়েছে।

আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা বাজেটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমানতকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের বিকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অন্যতম আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বনায়ন সম্প্রসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি টেকসই ও পরিবেশ-সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে দশম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মেধাভিত্তিক প্রশাসন, সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করার মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

এসব অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার আশা করছে সরকার।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ