স্পোর্টস ডেস্ক: বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার ম্যাচের আগে টরন্টোতে বিশ্বকাপকে ঘিরে এক ব্যতিক্রমী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের একটি ব্যস্ত মহাসড়কের পাশে বিশ্বকাপের লোগোর ওপর বিশাল একটি ব্যানার টানিয়ে ফিফার সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের প্রতিবাদ জানায় একদল আন্দোলনকারী।
শুক্রবার (১২ জুন) টরন্টো স্টেডিয়ামের কাছাকাছি এলাকায় বিক্ষোভকারীরা বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক লোগো ঢেকে দিয়ে সেখানে ‘ফিফা থেকে ইসরায়েলকে বের করে দাও’ লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে দেয়। ব্যস্ত গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরাও ব্যানারটি স্পষ্টভাবে দেখতে পান।
এই কর্মসূচির পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা বিশিষ্ট ফিলিস্তিনি চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়ার মুক্তির দাবিও জানান। ২০২৪ সালের শেষ দিকে গাজায় তাকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আটক করে।
বিক্ষোভকারীদের মুখপাত্র ফয়সাল ইব্রাহিমের অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ফিফা পরোক্ষভাবে জড়িত। তার ভাষ্য, অবৈধভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি ফিফা উপেক্ষা করার পাশাপাশি সেসব ম্যাচ সম্প্রচারেও ভূমিকা রাখছে।
এর আগে গত মার্চে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পশ্চিম তীরের অমীমাংসিত আইনি অবস্থার প্রসঙ্গ তুলে ফিফা জানায়, ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে তারা কোনো ব্যবস্থা নেবে না।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে চলমান ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ নিয়ে ফিফা ইতোমধ্যেই নানা সমালোচনার মুখে রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে টরন্টোর এই বিক্ষোভে সংগঠনটির কাছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল ফিফার নেতৃত্বের কাছে একটি শক্তিশালী ও দৃশ্যমান বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তাদের ধারণা, সেই লক্ষ্য অর্জন করতে তারা সক্ষম হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সেখানে ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকাটিতে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরাও ফিফা ও উয়েফার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হয়।
—জা. অর্থনীতি/এআইই