মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলেনি ৭৫ বছরের নিহার বেগমের। মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার ৮নং মনসুরনগর ইউনিয়নের তাহারলামুয়া গ্রামের রাস্তার পাশেই কাটছে তার অনিশ্চিত জীবন। চলার শক্তি নেই, হারিয়েছেন স্মৃতিশক্তিও।
স্থানীয়রা জানান, নিহার বেগম ছোটবেলা থেকেই তাহারলামুয়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামের সমস্তি মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় তার। স্বামী জীবিত থাকতে সুখেই দিন কাটছিল। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পরই পাল্টে যায় দৃশ্যপট।
অভিযোগ রয়েছে, সৎ ছেলে লেচু মিয়া বাড়িঘর বিক্রি করে দিলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন নিহার বেগম। এরপর কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটান তিনি। বয়সের ভারে স্মৃতিশক্তি হারানোয় যেখানে আশ্রয় নিতেন, সেখানে ঘর নোংরা করার অজুহাতে তাকে বের করে দেওয়া হতো।
বর্তমান আশ্রয়দাতা রাজা মিয়া বলেন, রাস্তার ধারে পড়ে থাকতে দেখে ঘরে এনেছি। মানুষ তো, কিন্তু আমি দিনমজুর। স্থায়ীভাবে রাখা, খাওয়ানো, চিকিৎসা করানো আমার পক্ষে সম্ভব না। সরকার যদি একটা ব্যবস্থা করে।
৮নং মনসুরনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, লেচু মিয়াকে ইউনিয়ন অফিসে ডেকেছিলাম, আসেনি। পিতা-মাতা ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী সে দায়িত্ব এড়াতে পারে না। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যাবো। পাশাপাশি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করেছি বয়স্ক ভাতা ও বৃদ্ধাশ্রমে পুনর্বাসনের জন্য।
এ বিষয়ে সৎ পুত্রবধূ রাবেয়া বেগম বলেন, আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার আগেই ওনার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে গেছেন। নতুন করে আমরা দায়িত্ব নিতে পারবো না।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শুধু আইনি প্রক্রিয়া নয়, মানবিক দিক বিবেচনা করেও নিহার বেগমের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও খাদ্যের ব্যবস্থা করা জরুরি। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে তাকে পাঠানো যায় কিনা- সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
—জা. অর্থনীতি/এনজে