Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 02:32 am

বেনাপোল কাস্টমস গোডাউন থেকে পণ্য পাচারচেষ্টা, আটক ৩

image

শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল কাস্টমস গোডাউন থেকে জব্দকৃত ভারতীয় পণ্য পাচারের চেষ্টার অভিযোগে এক কাস্টমস সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ (এআরও) তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ করা হয় এবং উদ্ধার করা হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের বিভিন্ন পণ্য।

সোমবার (২২ জুন) বিকেলে বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্প থেকে আটক ব্যক্তিদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। এর আগে একই দিন রাত প্রায় ৩টার দিকে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ড ভ্যানের চালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ করা চালানে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কসমেটিকস এবং আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বেনাপোলে শুল্ক ফাঁকি, পণ্য চুরি ও বিভিন্ন অনিয়মের বেশিরভাগ ঘটনাই গভীর রাতে সংঘটিত হয়। প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত ও নজরদারি জোরদারের ঘোষণা এলেও বাস্তবে অনিয়মের পুনরাবৃত্তি বন্ধ হচ্ছে না। তবে এসব ঘটনা উদঘাটনে বিজিবির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি কার্যকর বলে মনে করেন তারা।

ব্যবসায়ী জসিম উদ্দীন বলেন, কাস্টমসে বড় ধরনের অনিয়ম বা রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা প্রকাশ্যে এলে প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রথমে বিষয়গুলো শনাক্ত করে বিজিবি। তাদের নিয়মিত নজরদারি না থাকলে অনেক চালান সহজেই গন্তব্যে পৌঁছে যেত।

যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মালামালের তালিকা ও সিজার মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পরপরই বেনাপোল কাস্টমস হাউস দুজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা এবং তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। তবে ব্যবসায়ী মহলে প্রশ্ন উঠেছে, শুধুমাত্র সাময়িক বরখাস্ত বা বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে এমন অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব কি না।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবসায়ী রাজ্জাক হোসেন বলেন, কাস্টমসে এর আগেও পণ্য গায়েব, শুল্ক ফাঁকি ও মিথ্যা ঘোষণার মতো নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে অনিয়মের সংস্কৃতি বন্ধ হবে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে কাস্টমসের জব্দ করা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য উধাও হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১ নম্বর শেড থেকে প্রায় ২৫ টন আমদানিকৃত পণ্য নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে। এর আগে ২৬ নম্বর শেড থেকেও প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ঘোষণাবহির্ভূত ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিকস জব্দ করা হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বন্দর ও কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুজন এআরও ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম