কুবি প্রতিনিধি: ৪ মাসে চার দফা বিভাগীয় প্রধান পরিবর্তন, দীর্ঘ সেশনজট ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইন বিভাগে তালা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
একই সঙ্গে বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট আটকে রাখা ও মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে বিভাগীয় প্রধান।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে বিভাগে তালা দেন। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি ও ১৪টি অভিযোগ উত্থাপন করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যথাসময়ে সেমিস্টার সম্পন্ন করা ও পরীক্ষার আগে ইনকোর্স পরীক্ষার ফল প্রকাশের দাবি জানালে তাদের সার্টিফিকেট আটকে রাখা এবং মামলার ভয় দেখানো হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া তাবাসসুম। তিনি বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঢালাওভাবে অভিযোগ না করে শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্টভাবে বলুক, কোন শিক্ষক এমন কাজ করেছেন। তা না হলে বিভাগের সব শিক্ষকের বিরুদ্ধেই অভিযোগ চলে আসে, যা অনায্য।”
শিক্ষার্থীদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইনকোর্স পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ, আগামী সাত মাসের মধ্যে বাকি দুই সেমিস্টার সম্পন্ন করা, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাকি দুই সেমিস্টারের রোডম্যাপ প্রকাশ, পরীক্ষা শেষ হওয়ার আট সপ্তাহের মধ্যে ফল প্রকাশ, প্রয়োজনে অতিথি শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত কোর্স সম্পন্ন করা এবং আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়বে— এ বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার প্রদান।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা বিভাগের বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ উত্থাপন করেন।
এর মধ্যে রয়েছে— আট মাসের সেশনজট, পরীক্ষার আগের রাতে রুটিন প্রকাশ, অসম্পূর্ণ কোর্সে পরীক্ষা গ্রহণ, কারণ ছাড়াই অনলাইন ক্লাস পরিচালনা, ইনকোর্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করা, একই সিলেবাস পুনরায় পড়ানো, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে একই কোর্সে একাধিক শিক্ষক যুক্ত হয়ে সেমিস্টার কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের অভাব, ফল প্রকাশে বিলম্ব, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, নির্ধারিত তারিখ দিয়েও বারবার পরীক্ষা স্থগিত করা, একই দিনে দুটি মিডটার্ম পরীক্ষা গ্রহণ, দাবি উত্থাপন করলে পদত্যাগের ভয় দেখানো এবং সার্টিফিকেট আটকে রাখা ও মামলার ভয় দেখানোর অভিযোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মু. আলী মুর্শেদ কাজেম পদত্যাগ করেন। এরপর নতুন বিভাগীয় প্রধান নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী।
পরে দায়িত্ব পান সহকারী অধ্যাপক সাঈদা তালুকদার রাহী। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে শিক্ষাছুটিতে গেলে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেন সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া তাবাসসুম। এই সময়ে বিভাগীয় প্রধানের একাধিক পরিবর্তনে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিভাগে সেশনজটের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক সাদিয়া তাবাসসুম বলেন, চার মাসে চারজন বিভাগীয় প্রধান দায়িত্বে ছিলেন। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন কমিটি নতুন করে গঠন করতে হয়েছে। তবে এই ব্যাচের সমস্যাটি শুধু বর্তমান সময়ের নয়, শুরু থেকেই তাদের কিছু জটিলতা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ আগামীকালের মধ্যে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ এবং আগামী সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরুর আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে আজকের মধ্যেই ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া আগামীকাল অফিস সময়ের মধ্যে চলমান ও পরবর্তী দুই সেমিস্টারের পরীক্ষা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিয়মিত ক্লাস ও ইনকোর্স কার্যক্রম অব্যাহত রেখে প্রতিটি সেমিস্টারের ফলাফল সর্বোচ্চ আট সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশের কথাও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, এ বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। প্রো-ভিসি ম্যাম ও ডিন স্যার সমাধান দিয়েছেন। সেই অনুযায়ীই রুটিন করা হয়েছে।
পরীক্ষা কবে শুরু হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু হবে।
—জা.অর্থনীতি/এনজে