Print Date & Time : 23 October 2026 Friday 07:17 am

মুক্তমঞ্চে খেলা দেখা নিয়ে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

image

জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মুক্তমঞ্চে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে গিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নাঈম আহমদ সানি মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

এ ঘটনায় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ, পাবলিক হেলথ বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আসাদুজ্জামান ইমন, দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী শাহানুর রহমান সানজুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিচার ও নিরাপত্তা চেয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দেওয়া আবেদনে নাঈম জানান, গত ২২ জুন রাত ১০টার দিকে তিনি হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মুক্তমঞ্চে আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ফুটবল ম্যাচ দেখতে যান। সে সময় সেখানে একটি রম্য বিতর্ক চলছিল। খেলা শুরুর নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও বিতর্ক শেষ না হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং তারা দ্রুত খেলা সম্প্রচারের দাবি জানান।

অভিযোগ অনুযায়ী, বিতর্ক শেষে খেলা দেখানোর জন্য চ্যানেল চালু করা হলেও কিছু দর্শক বসার জায়গা না পেয়ে মঞ্চের দুইপাশে উঠে বসেন। পরে রাত ১০টা ৫৮ মিনিটের দিকে হঠাৎ করে স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ ঘোষণা দেন, মঞ্চ থেকে সবাই না নামলে খেলা চালানো হবে না।

নাঈমের দাবি, তখন তিনি অন্য দর্শকদের সঙ্গে খেলা চালুর আহ্বান জানান। একপর্যায়ে কিরণ তার কাছে এসে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। পরে ইমনসহ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরেন এবং ধাক্কাধাক্কি করেন। আশপাশের শিক্ষার্থীরা হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।

তবে কিছুক্ষণ পর কিরণ, ইমন, সানজুসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন নাঈম। তার ভাষ্য, হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি ও খামচি মারেন। এতে মুখ, গলা ও চোখের আশপাশে আঘাত লাগে এবং রক্তপাত হয়। গলায় থাকা আর্জেন্টিনার পতাকা পেঁচিয়ে ধরায় শ্বাসরোধের পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

নাঈম আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার জামার কলার, গলা ও হাত ধরে টানাটানি করেন এবং একপর্যায়ে তাকে মঞ্চে তুলে নিয়ে সবার সামনে মারধরের চেষ্টা করেন। পরে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেন।

ঘটনার পর টিএসসি ভবনের একটি ওয়াশরুমে গিয়ে নিজের আঘাত দেখতে পান বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং পুনরায় হামলার আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও দাবি করেন। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে নিরাপদে চলাফেরার নিশ্চয়তা চেয়েছেন তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। জাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক মাহমুদুল হাসান কিরণ বলেন, তিনি কোনো মারধরের ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন না; বরং পরিস্থিতি শান্ত করে সবাইকে খেলা দেখার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বর্তমানে ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় বিস্তারিত বলতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে আসাদুজ্জামান ইমনও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের হামলা বা গণপিটুনিতে তার সম্পৃক্ততা নেই।

এ বিষয়ে শাহানুর রহমান সানজুর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম. রাশিদুল আলম বলেন, অভিযোগপত্র পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

—জা.অর্থনীতি/এনজে