পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণে পা রাখলেই গা শিউরে ওঠে, চোখ জুড়িয়ে যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন, কাবার দেয়াল ঘেঁষে এমন একটি নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে, যেখানে স্বয়ং ফেরেশতা হযরত জিবরাইল (আ.) এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে জামাতে নামাজ পড়েছিলেন? হ্যাঁ, কাবার দরজার পাশে শাধারাওয়ানের ওপর থাকা আটটি বিশেষ মার্বেল খণ্ড আজও সেই মহিমান্বিত ইতিহাসের সাক্ষী বহন করছে, যাকে বলা হয় ‘মুসাল্লা জিবরাইল’।
মেরাজের সেই অলৌকিক সফর থেকে নবীজি (সা.) যখন উম্মতের জন্য নামাজের উপহার নিয়ে ফিরে এলেন, তখন নামাজের সময় ও নিয়মকানুন হাতে-কলমে শিখিয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা জিবরাইল (আ.)-কে পাঠালেন।
সুনানে আবু দাউদের ৩৯৩ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, জিবরাইল (আ.) কাবার পাশে পরপর দুই দিন আমাকে নিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইমামতি করেছেন।
প্রথম দিন: জোহর পড়ালেন ঠিক দুপুরে সূর্য ঢলে পড়ার পর, আসর পড়ালেন যখন বস্তুর মাকড়সা বা ছায়া তার সমান হলো, মাগরিব পড়ালেন ইফতারের সময়, এশা পড়ালেন সন্ধ্যার লাল আভা মিলিয়ে যাওয়ার পর এবং ফজর পড়ালেন একদম ভোরে।
দ্বিতীয় দিন: তিনি প্রতিটি নামাজের সময়কে কিছুটা পিছিয়ে দিয়ে একেবারে শেষ সীমানায় নিয়ে নামাজ পড়ালেন।
নামাজ শেষে জিবরাইল (আ.) নবীজিকে বললেন, হে মুহাম্মদ (সা.)! এটাই হলো আপনার পূর্ববর্তী নবীদের নামাজের ওয়াক্ত এবং (পাঁচ ওয়াক্তের) আসল সময় এই দুই সীমানার মাঝখানেই।
বর্তমানে কাবার যে অংশে দাঁড়িয়ে জিবরাইল (আ.) ইমামতি করেছিলেন, সেই জায়গাটি আটটি বিরল মার্বেল পাথর দিয়ে চিহ্নিত করা আছে। এগুলো কোনো সাধারণ পাথর নয়, ইতিহাসবিদদের মতে এগুলো পৃথিবীর অন্যতম দুর্লভ পাথর 'মেরি স্টোন'। খলিফা আবু জাফর আল-মানসুর এই মূল্যবান পাথরগুলো উপহার হিসেবে এখানে স্থাপন করেছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় টুকরোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৩ সেন্টিমিটার এবং প্রস্থ ২১ সেন্টিমিটার।
আজ আমরা যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, তার সময়সীমা কোনো মানুষের তৈরি নয়, বরং আসমান থেকে জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে সরাসরি কাবার চত্বরে এসে নির্ধারিত হয়েছিল। প্রতিদিন লাখো হাজী এই পাথরের পাশ দিয়ে তাওয়াফ করে যান। এই স্থানটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নামাজ শুধু একটি ইবাদত নয়, এটি সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক মহামূল্যবান উপহার। দেড় হাজার বছর আগের সেই পবিত্র মুহূর্তের স্মৃতি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই 'মুসাল্লা জিবরাইল' প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে নবীপ্রেম ও নামাজের প্রতি মনোযোগকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
জা. অর্থনীতি/ উমার