Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 11:50 pm

অপহরণের ৩৬ ঘণ্টা পর এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মী উদ্ধার

image

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হাকিমপুরে (হিলি) ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার অফিস কক্ষে সুকৌশলে অপহরণ ও ১৮ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হাকিমপুর থানা পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

৩০ জুন (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় সংঘটিত এই অপহরণের ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ। এই সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি তিন আসামি পলাতক রয়েছে।

মামলার বিবরণ বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, গত ৩০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আসামি মো. মেহেদী হাসান ওরফে মাহাদী হাসান অফিসের কাজের কথা বলে মোবাইল ফোনে জীবনান্দ সরকার নামের ওই তরুণকে ডেকে নেন। পরে তাকে সুকৌশলে অপহরণ করে আসামি মো. মন্তাজ ওরফে মুন্তাজ হোসেনের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। সেখানে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় জীবনানন্দের পরিবারের কাছে ১৮ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। মুক্তিপণ না দিলে তাকে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছে থাকা স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ৩টি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের ৬টি নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও টিপসই নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমকে হিলি চারমাথাস্থ ডাচ-বাংলা ব্যাংক এজেন্টের নিজস্ব অফিস কক্ষে এনে আটকে রাখা হয়।

এদিকে ছেলের নিখোঁজ ও মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি জানতে পেরে জীবনানন্দের বাবা তাৎক্ষণিকভাবে হাকিমপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে এবং হিলি চারমাথার অফিস কক্ষ থেকে ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২ অপহরণকারীকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর কৃষ্টপুর আটাপাড়া গ্রামের মো. ইউনুস আলীর ছেলে মো. ইউসুফ আলী (২৮) (বর্তমানে দিনাজপুরের বিরামপুর ইসলামপুরের ভাড়াটিয়া) এবং দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ইসলামপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. মোজাম্মেল হোসেন মুকুল (৪৫)।

পুলিশ জানায়, এই অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, মারপিট ও জোরপূর্বক চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনায় ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে হাকিমপুর থানায় দণ্ডবিধির ৩৬৫/৩৮৬/৩৮৭/৩৪২/৩৪ ধারায় একটি মামলা (মামলা নং-০১/১৩৭) দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার মূল পরিকল্পনাকারী মেহেদী হাসানসহ পলাতক বাকি তিন আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি