Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 07:15 am

প্রবেশপত্র ছাড়াই পরীক্ষার হলে ৯ পরীক্ষার্থী

image

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: কলেজ কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণে ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েও প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) হাতে পায়নি শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ শিক্ষার্থী। এর ফলে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই চরম ভোগান্তি ও মানসিক ট্রমার শিকার হতে হয়েছে তাদের। তবে শেষ পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তারা পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে প্রবেশপত্র ছাড়া ঢুকতে গেলে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা এই ৯ পরীক্ষার্থীকে আটকে দেন। পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারার আশঙ্কায় কেন্দ্রের বাইরেই কান্নায় ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান দ্রুত কেন্দ্রে ছুটে যান। তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন। এরপর সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করে বোর্ডের বিশেষ অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা হলো— মানবিক বিভাগের শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দিপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীল এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তারসহ মোট ৯ জন। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেরিতে ও প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষায় বসায় তারা প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিল। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দিলেও তা তাদের ক্ষতির তুলনায় পর্যাপ্ত ছিল না।

কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল ঘটনার দায় স্বীকার করে বলেন, “প্রবেশপত্র না আসার বিষয়টি আমার আগে থেকে জানা ছিল না। এ ঘটনায় আমাদের কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেব এবং আমার নিজেরও বড় ধরনের দায় রয়েছে।” তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

শ্রীমঙ্গলের ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “এটি স্পষ্টতই কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার ফল। তবে জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা দ্রুততম সময়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করতে পেরেছি।” পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি