Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 04:25 am

খামেনির জানাজায় উপস্থিত তিন ছেলে, অনুপস্থিত মোজতবা

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় তার তিন ছেলে-মোস্তফা, মেইসাম ও মাসউদ খামেনি-কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে নামাজে অংশ নিলেও, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মোজতবা খামেনিকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে দেখা যায়, তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনি ও তার পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিনের পাশে তিন ভাই জানাজার নামাজ আদায় করছেন। তবে মোজতবা খামেনির কোনো উপস্থিতি বা নতুন ছবি প্রকাশ করা হয়নি।

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র খামেনির স্মরণে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক ও গণশোকযাত্রার আয়োজন করেছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে তার মরদেহ ইরানের বিভিন্ন ধর্মীয় নগরীর পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাকের শিয়া পবিত্র শহরগুলোতেও নেওয়া হবে।

শনিবার প্রথমে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও বিদেশি প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য খামেনির মরদেহ একটি হলে রাখা হয়। পরে তার কফিন কাচে আবৃত অবস্থায় জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। একই স্থানে রাখা হয় তার মেয়ে, জামাতা, পুত্রবধূ এবং ১৪ মাস বয়সী নাতনির কফিন।

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা খামেনির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সূত্র জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার সময় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন। হামলায় তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে যায় এবং এক বা উভয় পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

রবিবারের জানাজায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফও অংশ নেন। এ সময় কালিবাফকে কান্নায় ভেঙে পড়তে এবং চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

তেহরানের মোসাল্লা প্রাঙ্গণে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। অনেককে কান্না করতে, বুক চাপড়াতে এবং প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায়। ইরানের মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ যাত্রী রাজধানীর কেন্দ্রে যাতায়াত করেছেন।

সরকারি কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার তেহরানে বিশাল শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মঙ্গলবার মরদেহ নেওয়া হবে কুম শহরে। বুধবার ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। সেদিন মাশহাদে আরেকটি শোকযাত্রার পর সেখানে মধ্যযুগীয় এক শিয়া ইমামের মাজারের পাশে খামেনিকে দাফন করা হবে।

সূত্র: রয়টার্স

জা.অর্থনীতি/এসআই