যশোর প্রতিনিধি: ঢাকা-যশোর রেলপথে ভোরে যশোর থেকে ঢাকাগামী এবং সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যশোরমুখী একটি আন্তঃনগর ‘প্রভাতী ট্রেন’ চালুসহ ছয় দফা দাবিতে যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে রেল অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে ‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, পেশাজীবী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ যাত্রী অংশ নেন। বক্তারা বলেন, ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প চালু হলেও যশোরবাসী কাঙ্ক্ষিত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে এই রুটের ট্রেনের সময়সূচি ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য মোটেও উপযোগী নয়। ভোরবেলায় ট্রেন না থাকায় জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে।
কর্মসূচি থেকে উত্থাপিত ৬ দফা দাবিগুলো হলো—বেনাপোল বা দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে অবিলম্বে একটি ‘প্রভাতী’ আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট তিনটি নতুন ট্রেন চালু, সব আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ কোচ সংযোজন, দর্শনা-খুলনা ও বেনাপোল-যশোর রুটে দ্রুত ডাবল রেললাইন নির্মাণ, সীমান্ত এলাকা থেকে যশোর হয়ে ঢাকাগামী নিয়মিত কমিউটার ট্রেন চালু, সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনে দ্রুত ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) চালু এবং রেল ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ।
সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক কাওসার আলী বলেন, ২০২৩ সাল থেকে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করলেও রেল কর্তৃপক্ষ দাবি বাস্তবায়ন করেনি। এক মাসের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রেল অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। কর্মসূচিতে সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ভিটুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি