একটি পরাশক্তি যখন সামরিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোনো জাতিকে চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে, তখন সাধারণ সমীকরণে সেই জাতির পতন হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সব চাপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যদি কোনো জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে, তবে বুঝতে হবে ক্ষমতার প্রথাগত সমীকরণের বাইরেও অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তি সেখানে কাজ করছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লব এবং এর পরবর্তী ইতিহাস ঠিক এই ব্যতিক্রমী সত্যেরই সাক্ষ্য দেয়।
চলমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে ইরানের এই অনন্য সাফল্যের গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে পবিত্র কুরআনের। সুরা ফুসসিলাতের ৩০ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা বলেছন, নিশ্চয়ই যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না...।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই আয়াতের মূল চাবিকাঠি হলো ইস্তেকামাত বা অবিচলতা। মুখে আল্লাহ আমাদের প্রভু বলা সহজ, কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপ, নিষেধাজ্ঞা আর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মুখে সেই বিশ্বাসের ওপর অনড় থাকা অত্যন্ত কঠিন। বিশ্বের বুকে অনেক জাতিই শুরুর দিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেও, শত্রুর পরিহাস আর বৈরী পরিস্থিতির মুখে একসময় পিছু হটে যায়। কিন্তু ইরানি জাতি এখানেই আলাদা; তারা শুধু এই সত্যকে স্বীকারই করেনি, বরং এর ওপর সর্বোচ্চ দৃঢ়তা দেখিয়েছে।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, সাদ্দামের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ থেকে শুরু করে আজকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবরোধ—সবক্ষেত্রেই ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কুরআনি নীতিতে বিশ্বাসী এই জাতি কোনো পরাশক্তির ইমেজের কাছে মাথা নত করেনি। যখন একটি জাতি খোদায়ি দায়িত্বে অবিচল থাকে, তখন কোনো কিছু হারানোর ভয় তাদের আর স্পর্শ করতে পারে না। সন্তানকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করেও একজন ইরানি মা যেভাবে প্রশান্ত থাকেন, তা কেবল এই আধ্যাত্মিক শক্তির কারণেই সম্ভব।
আজকের এই আধুনিক সময়েও ইরানের এই অকুতোভয় নীতি বিশ্বমঞ্চে মার্কিন বলদর্পিতার দাপটকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। ইরান প্রমাণ করেছে, আল্লাহর পথে চলার অর্থ কেবল ঘরের কোণে বসে ইবাদত করা নয়; বরং সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে মানুষের সাম্য ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করা।
জা. অর্থনীতি/ উমার