Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 10:09 pm

এলডিসির মসৃণ উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

image

অনলাইন ডেস্ক: স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদার, সহজ শর্তে অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, জলবায়ু অর্থায়ন সহজপ্রাপ্য করা এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে এলডিসি গ্রুপ।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে এলডিসি গ্রুপের পক্ষে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঋণের চাপ, বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কমে যাওয়া, সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা, সাশ্রয়ী অর্থায়নের অভাব এবং ডিজিটাল বৈষম্যের কারণে এলডিসিগুলোর টেকসই উন্নয়ন ও ২০৩০ সালের এসডিজি অর্জন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে এসব সংকট দোহা কর্মসূচির লক্ষ্য অর্জনেও বাধা সৃষ্টি করছে।

ড. তিতুমীর জানান, বর্তমানে ১৪টি এলডিসি উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশ ও নেপাল উত্তরণ-প্রস্তুতির সময় ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর বাড়ানোর আবেদন করেছে। তিনি বলেন, এটি কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য কৌশলগত প্রয়োজন।

এলডিসি গ্রুপের পক্ষ থেকে তিনি পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এগুলো হলো- সহজ শর্তে উন্নয়ন অর্থায়ন বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার ও টেকসই ঋণ সমাধান, সহজপ্রাপ্য ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা, এলডিসির জন্য বাজারে প্রবেশাধিকার ও উন্নয়নবান্ধব রুলস অব অরিজিন বজায় রাখা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য কমানো।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছর কাতারের দোহায় অনুষ্ঠেয় দোহা কর্মসূচির মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার এবং গৃহীত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে নতুন গতি সৃষ্টির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষাংশে ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসিগুলোর সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংহতি ও কার্যকর বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে এলডিসি গ্রুপ সব অংশীদারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।

জা.অর্থনীতি/এসআই