Print Date & Time : 26 October 2026 Monday 12:53 pm

আগামী বছরের শুরুতেই ইউপি নির্বাচন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

image

নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী বছরের শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এই নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। এখানে বিএনপি বা জামায়াতে ইসলামী বলে কেউ কোনো সুবিধা পাবে না।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ পয়গাম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী হলে রাষ্ট্রও শক্তিশালী হবে। আগামী বছরের প্রথমদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারই প্রশাসন, বিচার, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারকে সেই কাঙ্ক্ষিত শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এখন সময় এসেছে স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতায়নের।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রতিনিধি হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। জনগণের সমস্যা, চাহিদা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের মতো আর কেউ এতটা জানেন না। তাই দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অতীতের শাসনামলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

মন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কল্যাণে ট্রাস্ট ও তহবিল গঠনের বিষয়েও সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে বলে আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনসহ আগামীতে সকল নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের ভোটেই চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।

মন্ত্রী সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সব বিভাগ ও জেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিটি গঠন করতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে নয়, দেশের স্বার্থে বিশ্বাসী সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং যথাযথ কারণ ছাড়া তাদের বরখাস্ত করা উচিত নয়। তিনি সরকারি ত্রাণ সঠিকভাবে বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, গরিব মানুষের অধিকার যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

এছাড়া চলতি বছর ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত হতে তাদের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এদিকে আলোচনা সভায় নিজেদের ভাতা বৃদ্ধিরও দাবি জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। তারা বলেন, বর্তমানে প্রতি মাসে একজন ইউপি চেয়ারম্যান দশ হাজার টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন। আর মেম্বারদের ভাতা আট হাজার টাকা। এ সময় একজন চেয়ারম্যান তাদের ভাতা ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি ও মোটর বাইক দেওয়ারও দাবি জানান। এছাড়া একজন মানুষ সুষ্ঠুভাবে জীবন যাপন করার উপযোগী করে তাদের ভাতা পুনর্বিবেচনার দাবি তারা।  

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেন। চলমান বন্যা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এপ্রিল মাসে ত্রাণের বরাদ্দ হওয়ার প্রচলিত নিয়ম বদলে এখন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ দেওয়া হবে। এতে বছরের বাকি চার মাসের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা সহজ হবে বলেও উল্লেখ করেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, তৃণমূলের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মাধ্যমেই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। দুর্যোগের সময় ত্রাণ বিতরণসহ সব ধরনের কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি