Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 02:06 am

চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা দেখছিলেন শিক্ষক, ৪০০ খাতা জব্দ

image

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেটে রাতে চায়ের দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে উচ্চমাধ্যমিকের (এইচএসসি) উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন একজন শিক্ষক। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন বন্ধুও খাতা দেখছিলেন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা সেই দোকানে গিয়ে হাতেনাতে শিক্ষককে আটক করেন এবং তাঁর কাছ থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করেন।

এবার সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে এই ঘটনা ঘটে।

সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেনের (সোহান) কাছ থেকে খাতাগুলো জব্দ করা হয়। তিনি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে খাতা দেখছিলেন ইকবাল। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আইরিন লিনজাসহ আরও দুজন, যাঁরাও খাতা কাটছিলেন। দোকানে তখন এক বস্তা খাতা ছিল বলে জানা গেছে। এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও একই দোকানে বসে তাঁরা খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন।

শিক্ষিকার গানের রিলস নিয়ে তোলপাড়, শিক্ষকদের অভিনব প্রতিবাদ

দোকানের মালিক ফজলুল হক জানান, রাতে দোকান গোছানোর সময় তিনি দেখেন তাঁরা ভেতরে কাগজপত্র দেখছেন। এরপর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে চলে যান। তিনি আরও জানান, ওই পরীক্ষক ও তাঁর সহপাঠীরা নিয়মিত চা পান ও আড্ডা দিতে তাঁর দোকানে আসতেন, শুক্রবার রাতেও তাঁরা এসেছিলেন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড, তবে পুলিশে সোপর্দ করা হয়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও ইকবালের বক্তব্য জানা যায়নি।

ইকবালের বন্ধু আইরিন লিনজা সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর কাছ থেকে কোনো খাতা জব্দ করা হয়নি এবং এই ঘটনায় তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি জানান, খাতা এনেছিলেন ইকবাল, যিনি তাঁর বন্ধু ও ব্যাচমেট এবং তিনি শুধু তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

সিলেটে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাস্পের উদ্বোধনে খন্দকার মুক্তাদির

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন বলেন, খবর পেয়ে রাতেই চায়ের দোকানে গিয়ে খাতা দেখা অবস্থায় ওই পরীক্ষককে ধরা হয় এবং সেখান থেকে ৪০০টি খাতা জব্দ করা হয়। তিনি এখন বোর্ডের হেফাজতে আছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, চায়ের দোকানে খাতা দেখার অভিযোগে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা এক শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসেন এবং এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান তাঁরা।