Print Date & Time : 27 October 2026 Tuesday 09:08 am

বরিশালে বিদ্যুতের ভোগান্তি: লোডশেডিংয়ের সঙ্গে ভূতুড়ে বিল

image

বরিশাল প্রতিনিধি: একদিকে তীব্র গরমে ঘণ্টায় ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা, অন্যদিকে আগের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিলের বোঝা- এই দুই সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বরিশাল নগরীসহ গোটা জেলার কয়েক হাজার গ্রাহক। শুধু বরিশাল নয়, দেশজুড়েও বিদ্যুৎ বিলের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

গ্রাহকদের মূল অভিযোগ- সমপরিমাণ বা সামান্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা সত্ত্বেও বিল এসেছে কয়েক গুণ বেশি। মে মাসের তুলনায় জুন মাসের বিলে বহু গ্রাহকের স্ল্যাব পরিবর্তন করে ভৌতিক ইউনিট যোগ করার অভিযোগ উঠেছে। বরিশালের এক গ্রাহক জানান, মে মাসে ১৮০ ইউনিট ব্যবহারে যে বিল এসেছিল, জুনে মাত্র ৬৫ ইউনিট বেশি (২৪৫ ইউনিট) দেখানোর কারণে তার বিল বেড়ে গেছে প্রায় ৬৮২ টাকা। অন্যান্য অনেক জায়গায় এক মাসের ব্যবধানে বিল দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রমাণ মিলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ‘ভৌতিক বিল’ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট আনিস ইউ খান লিখেছেন, সিস্টেমেটিক লস ও বিদ্যুৎ চুরির মাশুল চাপানো হচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের ওপর। তার নিজের ভবনের কমন মিটারের বিল এক মাসে ১৮ হাজার টাকা থেকে একলাফে ৫৬ হাজার টাকায় পৌঁছেছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, জুন থেকে কার্যকর হওয়া নতুন ট্যারিফ এবং গ্রীষ্মকালে বাড়তি ব্যবহারের কারণেই গ্রাহকেরা উচ্চতর স্ল্যাবে চলে গেছেন। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর কুমার স্বর্ণকার বলেন, "কোনো অতিরিক্ত বিল করা হয়নি, মিটারের সঠিক হিসাব অনুযায়ী বিল প্রস্তুত করা হয়েছে।" অন্যদিকে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিফ সাদিক জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও সমাধানের জন্য দ্রুতই আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।

জ্বালানি বিশ্লেষক ও সচেতন মহল বলছেন, একই সময়ে দেশজুড়ে একই ধরনের অভিযোগ উঠলে শুধু 'ব্যবহার বেড়েছে' বলে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে মিটার রিডিং, বিলিং সফটওয়্যার ও ওভার বিলিংয়ের অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি