Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 09:51 am

‘হলুদ সাংবাদিকতার অপরাধে’ পাকিস্তানে ‘ব্যান’ আল-জাজিরা

image

অনলাইন ডেস্ক: পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে নির্বাচনী সহিংসতা এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভের খবর প্রকাশের একদিন পর পাকিস্তারজুড়ে আর খুলছে না আল-জাজিরা ওয়েবসাইট।

কাতারভিত্তিক এই ব্রডকাস্ট নেটওয়ার্ক বা পাকিস্তান সরকার- কারো পক্ষ থেকেই এই ’ব্যান’ এর ব্যাপারে কিছু বলা না হলেও ব্যবহারকারীদের কেউই আল-জাজিরা ওপেন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ।

তবে, তথ্য ও সম্প্রচার (আইঅ্যান্ডবি) মন্ত্রণালয় রোববার গভীর রাতে এটিকে “পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন” বলে অভিহিত করেছে এবং নির্বাচন ও ভোটদান প্রক্রিয়াকে “ভুলভাবে উপস্থাপনের” জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে অভিযুক্ত করেছে।

এক বিবৃতিতে তারা বলে, “আমরা আজ মুজাফফারাবাদের হাতেগোনা কয়েকটি ভোটকেন্দ্র থেকে আল-জাজিরার পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদনের বিষয়টি লক্ষ করেছি। সুচিন্তিতভাবে নির্বাচিত সময় এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে সাজানো বক্তব্যের মাধ্যমে চ্যানেলটি আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচন এবং ভোটদান প্রক্রিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে।”

তারা আরও বলে, “এই ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা কেবল স্বার্থান্বেষী বহিরাগত শক্তিগুলোর উদ্দেশ্যকেই সমর্থন করে, যারা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অবৈধ প্রমাণ করতে এবং মুজাফফারাবাদ ও আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের ইচ্ছাকে ক্ষুণ্ণ করতে চাইছে, যা আজ নৈরাজ্য ও জবরদস্তির প্রতি তাদের প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হয়েছে।”

আল-জাজিরার সংবাদদাতা কামাল হায়দার মুজাফফারাবাদ থেকে ব্যাপক বিক্ষোভ, কম ভোটার উপস্থিতি এবং ভারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাস্তা অবরোধ ও যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদন করেছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

একটি প্রতিবেদনে হায়দার বলেন, অনেক বাসিন্দা এই কম ভোটার উপস্থিতিকে প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রতি সংহতির প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। “মানুষ এই ব্যবস্থার ওপর বীতশ্রদ্ধ। তারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে,”- একজন স্থানীয় বাসিন্দা সম্প্রচারকারীকে বলেন।

আল-জাজিরা সেই অল্প কয়েকটি প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার মধ্যে অন্যতম ছিল যারা এই অস্থিরতার ওপর ধারাবাহিক সংবাদ পরিবেশন করেছে। তারা ইন্টারনেট বন্ধ, কারফিউ, রাস্তা অবরোধ এবং বিক্ষোভকারীদের এই অভিযোগের খবর দিয়েছে যে, নির্বাচন এমন পরিস্থিতিতে পরিচালিত হয়েছে যা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ অন্যায়ের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় বলে আখ্যা দিয়েছে।

এই বিধিনিষেধের খবর এমন এক সময়ে এসেছে যখন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) বিক্ষোভ মোকাবিলার জন্য ক্রমবর্ধমান সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সংস্কার, বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর জন্য জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছে। সরকার বিক্ষোভের নেতৃত্বদানকারী গোষ্ঠী জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটিকে (জেএএসি) একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

সাম্প্রতিক নির্বাচন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেএএসি (JAAC) এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, “পাকিস্তান আল-জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিয়েছে।”

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ অন্যান্যদের ট্যাগ করে দেওয়া পোস্টে সংস্থাটি বলেছে, “স্বাধীন সাংবাদিকতায় বাধা দেওয়া সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর একটি আক্রমণ। সেন্সরশিপ স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতার বিকল্প হতে পারে না।” সূত্র: রেডিট।