Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 05:19 am

৪ আগস্ট শাহবাগে আনু মোহাম্মদ ‘শ্যাডো ক্যাবিনেট’ তৈরির প্রস্তাব করেছিলেন, দাবি পাটোয়ারীর

image

অনলাইন ডেস্ক: তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের সাহসিকতা ও ভূমিকার প্রশংসা করে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের একটি ছবি যুক্ত করে তিনি এই অভিমত প্রকাশ করেন।

image

ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন লিখেছেন, ‘আনু মোহাম্মদ স্যারের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে ৪ আগস্ট উনি ব্যান্ডেজ লাগানো পা নিয়ে জীবনের রিস্ক নিয়ে শাহবাগে এসেছিলেন। সে ক্ষেত্রে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন অরণী সেমন্তী খান।’

শাহবাগের সেই দিনের একটি স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, স্যার সেদিন শ্যাডো কেবিনেটের প্রপোজাল-সংবলিত একটি কাগজ আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন। আমি পুরোটা পড়েছি। তারপর স্যারকে বললাম, ‘কোনো রাজনৈতিক নেতা বক্তব্য রাখেননি। আপনি বক্তব্য রাখলে বিষয়টা একটু ঘোলাটে হবে। আমরাই হ্যান্ডেল করি।’ স্যার মাথা ঝুঁকিয়ে সায় দিলেন।

ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও লিখেন, ‘আমি এই ছবির অমোঘ সত্য না বললে ইতিহাসের কাছে দায়বদ্ধ থাকব।’

‘আল্লাহ আনু মোহাম্মদ স্যারকে সুস্থ রাখুন। পাশাপাশি ইসলামের জন্য যারা কাজ করেন, তাদের প্রতিও স্যারের ন্যায়বিচার, সম্মান ও সহমর্মিতার একই দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার তাওফিক দান করুন। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থের প্রশ্নে আমরা সবাই যেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারি’, পোস্টে তিনি দোয়া প্রার্থনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে শুধু সেদিনের ঘটনার বিবরণই নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা ও নিজস্ব আদর্শিক অবস্থানের কথাও সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতি ও মতাদর্শ ভিন্ন হলেও যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরাই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির সৌন্দর্য এবং শেষ বিচার জনগণের হাতেই ন্যস্ত থাকে।

অধ্যাপক আনু মোহাম্মদের সুস্থতা কামনা করে তিনি বলেন, ইসলামের জন্য যারা কাজ করেন, তাদের প্রতিও এই বামপন্থী তাত্ত্বিকের ন্যায়বিচার, সম্মান ও সহমর্মিতার দৃষ্টিভঙ্গি বজায় থাকবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

কার্ল মার্কস, লেনিন বা চে গুয়েভারা অনেকের কাছে বিপ্লবের প্রেরণা হলেও, নিজের আদর্শিক জায়গা স্পষ্ট করে তিনি জানান, তার কাছে ন্যায়, মানবতা ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)। ধর্মকে 'আফিম' বা নেশা হিসেবে দেখার যে প্রচলিত বামপন্থী বয়ান রয়েছে, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, ধর্ম তার কাছে মানুষ হয়ে ওঠার এক জীবন্ত দলিল। ধর্মই তাকে জুলুমের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, মজলুমের পাশে থাকতে এবং দুর্বলকে রক্ষা করতে শিখিয়েছে।

পোস্টের শেষে তিনি স্পষ্ট করেন, তার রাজনীতির মূল ভিত্তি ক্ষমতা দখল নয়, বরং মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ ও জনকল্যাণ। এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেন, যেখানে মত, বিশ্বাস ও পরিচয়ের ভিন্নতা কোনো বিভেদের কারণ হবে না, বরং তা হয়ে উঠবে সহাবস্থান ও ঐক্যের মূল শক্তি।

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ