Print Date & Time : 25 October 2026 Sunday 04:34 pm

মানববন্ধনে প্রতিপক্ষের হামলায় ১ জন গুলিবিদ্ধ

image

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার শিবপুর এলাকায় একপক্ষের মানববন্ধনে প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়েছে। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইকরাম মোল্লা (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

রবিবার (০৯ আগস্ট) বেলা ১১ টার দিকে শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লা আটঘরিয়া উপজেলার কদিম বাগদিপাড়া গ্রামের জবির মোল্লার ছেলে। আর অভিযুক্ত গুলিবর্ষণকারী টিপু বিশ্বাস (৪২) একই উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের গুরুবাসি গ্রামের আহেদ বিশ্বাসের ছেলে।

স্থানীয়রাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, সম্প্রতি শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু এবং একই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তাদের অপসারণ দাবিতে গত ৩ আগস্ট মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্থানীয় একটি পক্ষ।

এদিকে, ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচী আহবান করে স্থানীয় অপর একটি পক্ষ। সকাল ১১ টার দিকে মাদরাসার প্রধান ফটকের সামনে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ান তারা। এ সময় টিপু বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা সেখানে গিয়ে তাদের কাছ থেকে ব্যানার ছিনিয়ে নিয়ে মানববন্ধনে বাঁধা দেন। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে প্রতিহত করতে চাইলে টিপু বিশ্বাস তার কোমড়ে থাকা পিস্তল বের করে প্রথমে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেন। তারপর তাকে বাধা দিলে ইকরাম মোল্লাকে গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে গুলিবর্ষণকারীকে ধাওয়া দিলে তার সহযোগীদের নিয়ে সে পালিয়ে যান। পরে গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লাকে উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আটঘরিয়া ও আতাইকুলা থানা পুলিশ।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কেউ এখনও অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি