Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 01:08 am

প্রতিদিন পড়ছেন আস্তাগফিরুল্লাহ, কিন্তু তাওবা কি কবুল হচ্ছে?

image

জীবনের পথ চলতে গিয়ে আমরা প্রতিদিনই ছোট-বড় ভুল করে ফেলি। কখনো জেনে, কখনো না জেনে। আর তখন মুখ থেকে আপনা আপনি বেরিয়ে আসে একটি মিষ্টি শব্দ— আস্তাগফিরুল্লাহ। এই একটি শব্দেই লুকিয়ে আছে এক বান্দার হৃদয়ের আকুতি, আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার এক কোমল আহ্বান।

কিন্তু প্রশ্ন হলো— শুধু মুখে এই শব্দটি উচ্চারণ করলেই কি গুনাহ মাফ হয়ে যায়?

আস্তাগফিরুল্লাহ আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই’। প্রিয় রাসুল (স.) নিজেও প্রতিটি নামাজের পর তিনবার এই দোয়া পড়তেন। এমনকি নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও তিনি দিনে সত্তরের বেশি বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। ভাবুন তো, যিনি নিষ্পাপ, তিনিই যখন এত বিনয়ী, তখন আমাদের কতটা বিনম্র হওয়া উচিত!

তবে ভালোবাসার মানুষটি জানে, শুধু মুখের কথায় হৃদয় বদলায় না। ইস্তেগফার তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তার সঙ্গে যুক্ত হয় সত্যিকারের অনুশোচনা, গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প, আর ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার নিষ্ঠা। মুখে ক্ষমা চেয়ে আবার সেই একই ভুলে ফিরে যাওয়া, এ যেন প্রিয়জনের কাছে ক্ষমা চেয়ে বারবার তার মন ভাঙা।

আর যদি কারও হক নষ্ট করে থাকি, কারও টাকা, সম্মান বা মন, তবে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট নয়। সেই মানুষটির কাছেও ফিরে যেতে হবে, ভুল শুধরাতে হবে। কেননা রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, প্রকৃত নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে নেক আমল নিয়ে আসবে কিন্তু মানুষের হক নষ্ট করার কারণে তার সব সওয়াব হারিয়ে ফেলবে।

তাই আসুন আজ থেকেই মন থেকে বলি, ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাযি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

শুধু মুখে নয়, হৃদয় দিয়ে। কারণ আল্লাহ কখনো তার বান্দাকে হতাশ করেন না। তিনি ক্ষমাশীল, তিনি দয়ালু। শুধু দরকার আন্তরিক ফিরে আসার।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে প্রকৃত তাওবা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

জা. অর্থনীতি/ ওএফএ