কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ইউনিয়নে এক স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে তাকে বাড়িতে গিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক বখাটে ছেলের বিরুদ্ধে। এসময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বোন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের মাধবদী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। সে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে একই গ্রামের অনিক মিয়া নামের বখাটে ছেলে প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি অশ্লীল কথাবার্তাও বলতেন তিনি।
এমন পরিস্থিতে ওই শিক্ষার্থী ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অনিক মিয়া বুধবার সকালে রড নিয়ে শিক্ষার্থীর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তাকে রড দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এ সময় শিক্ষার্থীকে রক্ষা করতে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়। পরে তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ষষ্ঠ শ্রেণির নারী শিক্ষার্থী শুধু নিজের সম্মান রক্ষায় প্রতিবাদ করেছিল। অথচ সেই প্রতিবাদের জের ধরে তার বাড়িতে গিয়ে হামলা ও মারধরের ঘটনা অত্যন্ত লজ্জাজনক। একজন স্কুলছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের দাবী, ঘটনার পর থেকে ওই স্কুলছাত্রী ও তার পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। হামলার পর শিক্ষার্থীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে সে স্কুলে যেতেও ভয় পাচ্ছে। ফের হামলার আশঙ্কায় পরিবারের সদস্যরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি