Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 12:28 pm

কারখানার ছাদেই মিলতে পারে ৩৬০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ

image

অনলাইন ডেস্ক: দেশের হাজার হাজার শিল্পকারখানার খালি ছাদে সৌর প্যানেল বসাতে পারলে জাতীয় গ্রিডে ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ যোগ করা সম্ভব বলে মনে করছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।

এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজন হবে প্রায় ১৬ হাজার ২৯৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ। নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে অর্থায়নকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ইডকলের নতুন এক মূল্যায়নে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ইডকলের তথ্য অনুযায়ী, দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে যেতে পারে এমন ১ হাজার ১৭১টি কোম্পানির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে মোট ১ হাজার ২৬৩ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া আরও ৪ হাজার ৭১২টি কোম্পানি থেকে পাওয়া যেতে পারে প্রায় ২ হাজার ৩৫৮ মেগাওয়াট।

১০ হাজারের বেশি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে এই সম্ভাবনার হিসাব করেছে ইডকল। এই সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় অংশই তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে। দেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ আসে এই খাত থেকে।

ইডকলের গবেষণা বলছে, শুধু তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতেই ২ হাজার ৮১৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এটি কাজে লাগাতে বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে ১২ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা।

ইডকলের জরিপে ৯ হাজারের বেশি পোশাক, বস্ত্র ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠান ছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬টি কোম্পানিকে দ্রুত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৮৭৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের বাইরে অন্যান্য শিল্পকারখানার ছাদ থেকেও আরও ৮০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫টি কোম্পানি এখনই প্রকল্প শুরু করতে প্রস্তুত। এসব কোম্পানিতে মোট ৩৮৪ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে আগামী পাঁচ বছরে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন অনেক বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে ইডকল। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ১২৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। ২০২৭ সালে এই পরিমাণ বেড়ে হবে ১৩৬ মেগাওয়াট। ২০২৮ সালে অর্থায়ন করা হবে ২০০ মেগাওয়াট প্রকল্পে। 

আর ২০২৯ ও ২০৩০ সালে প্রতি বছর প্রায় ২৩৩ মেগাওয়াট করে প্রকল্পে অর্থায়নের লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য বছরে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও বাড়বে। ২০২৬ সালে এ খাতে ৪৫০ কোটি টাকা অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে ইডকলের। পরে তা বাড়িয়ে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা করা হবে।

এখন পর্যন্ত ইডকল ৩৫২ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ২৬৪ মেগাওয়াট ইতোমধ্যে উৎপাদনে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগের প্রধান মো. এনামুল করিম পাভেল।

দেশের বড় কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বড় পরিসরে ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়েছে। ইডকলের অর্থায়ন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হা-মীম গ্রুপ। গাজীপুরের তিনটি কারখানায় প্রতিষ্ঠানটি মোট ১৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছে।

এর ফলে ডিজেল ব্যবহারের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ কমেছে বলে জানান গ্রুপটির জ্বালানি বিভাগের প্রধান তানুল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, সকালের শেষভাগ থেকে দুপুরের শুরুর দিক পর্যন্ত সৌর প্যানেলগুলোতে সবচেয়ে ভালো বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এতে হা-মীমের কার্বন নিঃসরণ কমেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরতাও কমেছে।

—জা.অর্থনীতি/জেআরটি