সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসায় বৃদ্ধ দম্পতি ও গৃহকর্মীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আলোচিত এই ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় নিহত এম. এ. সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের মেয়ে সেলিনা সুলতানা (৫৪) বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
শুক্রবার(১৪ আগস্ট) সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগে তিনি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধ, একাধিক মামলা-মোকদ্দমা এবং বিভিন্ন সময়ে পাওয়া হুমকির বিষয়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
সেলিনা সুলতানার এজাহার অনুযায়ী, রিকাবীবাজারের সরণপুর এলাকায় তার বাবা এম. এ. সাত্তার ও তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১২ শতক জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। ওই জমির মালিকানা নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিরোধের জেরে ২০১৬ সাল থেকে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাদী দাবি করেন, মামলা প্রত্যাহারের জন্য বিভিন্ন সময়ে তার বাবাকে হুমকি দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি পৈতৃক বাসায় এসে হুমকি প্রদান এবং একই বছরের ১৮ মে সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের সামনে বিরোধের ঘটনাও ঘটেছিল, যা নিয়ে আদালতে মামলা ও জিডি করা হয়। এমনকি চলতি ২০২৬ সালের ২৮ ও ৩০ জুলাইও আদালত প্রাঙ্গণে মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ১২ আগস্ট (২০২৬) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় এম. এ. সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমকে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বাসা থেকে ভূমি ও মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, জিডির কপি ও দলিলসহ বিভিন্ন নথি লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাদীর ধারণা, মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে 'বাবুল মিয়া' নামের কোনো ব্যক্তির নাম নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও সেলিনা সুলতানার দায়ের করা এজাহারে তার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এজাহারে নির্দিষ্ট কাউকে আসামি না করে অজ্ঞাতনামা ভাড়াটিয়া খুনিদের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বাদী তার বাবা-মা ও গৃহকর্মী হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং বাসা থেকে চুরি হওয়া নথিপত্র উদ্ধারের আকুল আবেদন জানিয়েছেন। বর্তমানে তদন্তকারী সংস্থা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্ত জোরদার করেছে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি