Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 07:33 am

হামে মৃত ৮২ শতাংশ শিশু যা পায়নি!

image

অনলাইন ডেস্ক: হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশই জন্মের পর প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ পূর্ণাঙ্গভাবে পায়নি। ফলে হামের মতো সংক্রামক রোগে শিশুর পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে এক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আইসিডিডিআর,বি।

গবেষণায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হামে আক্রান্ত ৩৫৪ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের ৪৩ শতাংশের বয়স ছিল ৩ থেকে ৯ মাসের মধ্যে। আক্রান্ত শিশুদের ৩৮ শতাংশ জন্মের পর প্রথম ছয় মাস মায়ের বুকের দুধ পূর্ণাঙ্গভাবে পায়নি। তবে মৃত শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৮২ শতাংশে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশই অপুষ্টিতে ভুগছিল। এর মধ্যে ১২ শতাংশ শিশু ছিল তীব্র এবং ৫৩ শতাংশ মাঝারি অপুষ্টির শিকার।

অর্থাৎ, হামে আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ শুধু সংক্রমণের ঝুঁকিতেই ছিল না, একই সঙ্গে অপুষ্টিরও শিকার ছিল। বিশেষ করে মৃত্যুবরণকারী শিশুদের মধ্যে প্রথম ছয় মাস পর্যাপ্ত বুকের দুধ না পাওয়ার হার ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

গবেষণায় টিকাদানের অবস্থাও বিশ্লেষণ করা হয়। বয়স ও টিকাদানের তথ্যের ভিত্তিতে ৩৪১ শিশুকে চারটি দলে ভাগ করেন গবেষকেরা।

নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি—এমন ৯ মাসের কম বয়সী ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জনের, অর্থাৎ ৯৭ দশমিক ৩ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়।

টিকা নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬ শিশুর মধ্যে ১২২ জনের বা ৯৭ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। এক ডোজ টিকা নেওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে ৪৪ জনের বা ৯২ শতাংশ এবং দুই ডোজ টিকা নেওয়া ২১ শিশুর মধ্যে ১৬ জনের বা ৭৬ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে।

তবে দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশুদের ৭৬ শতাংশ হামে আক্রান্ত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। কারণ, গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত সব শিশুই সন্দেহভাজন হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। তাই এই হার সাধারণ শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

গবেষকেরা বলছেন, দুই ডোজ টিকা নেওয়ার পরও এসব শিশুর হাম শনাক্ত হওয়ার কারণ জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। টিকা নেওয়ার পর পর্যাপ্ত রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া, সময়ের সঙ্গে অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কমে যাওয়া, অপুষ্টি কিংবা ব্যক্তিভেদে অন্য কোনো কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এসব সম্ভাব্য কারণের কোনটি সংক্রমণের জন্য দায়ী, তা বর্তমান গবেষণায় নির্ধারণ করা হয়নি।

গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আজিজুল হক সভাপতিত্ব করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক মো. নুরুল ইসলাম এবং আইইডিসিআরের পরিচালক কাজী আহমেদ জাকী।

—জা.অর্থনীতি/আইবিএম