Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 12:35 am

ইরানের হামলায় মার্কিন গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে ব্যাপক ক্ষতি

image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন গোয়েন্দা স্থাপনা ও নজরদারি ব্যবস্থায় শতকোটি ডলারের নজিরবিহীন ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ। চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মার্কিন গোয়েন্দা ব্যবস্থার জন্য অতীতে সংঘটিত যে কোনো হামলার তুলনায় বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের হামলায় সিআইএসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ব্যবহৃত ভবন, রাডার ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হামলার পর স্থাপনা পুনর্নির্মাণ ও সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের জন্য মার্কিন কংগ্রেসকে আলাদা জরুরি তহবিল বরাদ্দ করতে হয়েছে।

মার্কিন ও উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এনবিসি নিউজ জানায়, সংঘাত চলাকালে হামলার শিকার গোয়েন্দা-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর মধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদে থাকা একটি সিআইএ স্টেশন এবং ইরাকের পূর্বাঞ্চলের একটি স্থাপনা রয়েছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় থাকা সংবেদনশীল রাডার ও নজরদারি ব্যবস্থাও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংঘাতের শুরুতেই ইরান ধারাবাহিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার নেটওয়ার্কগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

স্যাটেলাইটের ছবি ও বিভিন্ন দৃশ্যমান প্রমাণে উন্নত কয়েকটি রাডার ব্যবস্থায় ধ্বংস ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। এর মধ্যে জর্ডানে থাকা এএন-টিপিওয়াই-২ রাডার ব্যবস্থা এবং কাতারে থাকা এএন-এফপিএস-১২ ফেজড অ্যারে রাডার রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন কৌশলগত সম্পদগুলোকে ওয়াশিংটন কতটা কার্যকরভাবে সুরক্ষা দিতে পারছে, তা নিয়ে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে জরুরি প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ইরানের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুতের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬৫ শতাংশ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ব্যবহার করা হয়েছে। একই সময়ে যুদ্ধ শুরুর আগের মজুতের তুলনায় টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকের মজুত অন্তত ৩৮ শতাংশ কমে গেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ে। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গোয়েন্দা স্থাপনায় হামলা চালায়।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করলেও সেটির বাস্তবায়ন আটকে আছে। বিশেষ করে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এবং সমঝোতার বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : এনবিসি নিউজ

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ