আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নতুন চাপের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বহুমুখীকরণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মোদি বলেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক পণ্য ও খাতের পরিধি বাড়ানো এবং বৈচিত্র্য আনা ভারতের লক্ষ্য।
মোদির এ বক্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরুর মাত্র সাত দিন পর। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত-ইরান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৭.০৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে মাত্র ১.৬৩ বিলিয়ন ডলারে।
ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি বলেন, নিষেধাজ্ঞার বাস্তবতা বিবেচনায় রেখেই বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা খোঁজা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অর্থায়ন, বিমা, পরিবহন ও লজিস্টিকসের সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করতে হবে।
বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে চাবাহার বন্দরকে দুই দেশের সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। ভারত দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত এই বন্দরের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২৬ এপ্রিল ভারতের জন্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অব্যাহতি শেষ হয়ে যায়। এরপর বন্দরটির ব্যবস্থাপনা থেকে ভারতকে সরে আসতে হয়।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলা করে ভারত-ইরান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফেরার জন্য ভারতের কূটনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও বৈঠক করেন মোদি। আলোচনায় রাশিয়া থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে তৈরি হওয়া বাণিজ্য ঘাটতি উঠে আসে।
ভারত রাশিয়ায় রপ্তানি বাড়াতে চাইছে। দেশটির বাজারে ভারতীয় মাংস, সামুদ্রিক পণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রবেশাধিকার সম্প্রতি কিছুটা উন্নত হয়েছে বলে জানান বিক্রম মিশ্রি।
সূত্র: আইআরএনএ
জা.অর্থনীতি/এসআই