Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 07:19 pm

রিকশা-ভ্যান চালকদের ৭ দফা দাবি

image

নিজস্ব প্রতিবেদক: মূল সড়কে বেপরোয়া গতি, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও একের পর এক মারাত্মক দুর্ঘটনায় রাজধানীর সার্বিক ট্রাফিক ব্যবস্থা এখন চরম বিশৃঙ্খল রূপ নিয়েছে। নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করলেও বাস্তবে মিলছে না তার কোনো সুফল।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে নগরীর প্রধান প্রধান রাজপথে কোনো ধরনের ট্রাফিক নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চষে বেড়াচ্ছে হাজার হাজার অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। শুধু সড়ক বিশৃঙ্খলা নয়, এসব অটোরিকশা চার্জ দিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অবৈধ গ্যারেজে চোরাই সংযোগের মাধ্যমে বড় পরিসরে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। এতে তৈরি হচ্ছে তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে জাতীয় গ্রিডে।

রাজপথের এমন নৈরাজ্য ও অবৈধ বিদ্যুৎ খরচের অভিযোগের মাঝেই, রিকশা উচ্ছেদ ও চালকদের প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে রাজপথে। হয়রানি বন্ধ ও পুনর্বাসনসহ মোট সাত দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘জাতীয় রিকশা-ভ্যান চালক শক্তি’।

জাতীয় নাগরিক পার্টির অঙ্গসংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’র বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গঠিত এই সংগঠনটির উদ্যোগে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ রাজপথের শৃঙ্খলা রক্ষা ও খেটে খাওয়া চালকদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের কাছে ৭ দফা দাবি ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত দাবি ও সুপারিশগুলো হলো:- রিকশা উচ্ছেদ ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও নগর পরিকল্পনার ভিত্তিতে রিকশা চলাচলের নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথক লেন, নির্ধারিত রুট ও রিকশা স্ট্যান্ড গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে অধিকতর গবেষণার মাধ্যমে রিকশার গতি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রিকশা শ্রমিকদের স্বল্পমূল্যে প্রশিক্ষণ ও রিকশার নিবন্ধনের সুযোগ দিতে হবে। প্রয়োজনে জাতীয় পরিচয়পত্রে পেশা অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে নিবন্ধন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সহজ করা যেতে পারে। রিকশা শ্রমিকদের জন্য দুর্ঘটনা বিমা, স্বাস্থ্যবীমা ও বার্ধক্যকালীন ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।নগর পরিকল্পনা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা প্রণয়নে রিকশা শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বাসন ও বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করে কোনো ধরনের উচ্ছেদ কিংবা হয়রানি করা যাবে না। রিকশাচালকদের মর্যাদাপূর্ণ শ্রমিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন গঠনের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় শ্রম আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বিকল্প কর্মসংস্থান না করে হুটহাট উচ্ছেদ অভিযান চালকদের রুটি-রুজির ওপর চরম আঘাত হানছে। সড়কের বিশৃঙ্খলা ও বিদ্যুৎ অপচয়ের টেকসই সমাধানের জন্য দমন-পীড়ন নীতি বাদ দিয়ে অনতিবিলম্বে এসব যুক্তিসংগত দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

—জা.অর্থনীতি/আরএস