নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: গ্যাস সংকটের অজুহাতে চট্টগ্রামে গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এর জেরে নগরের ৩ নম্বর (নিউ মার্কেট–ফতেহাবাদ) রুটে হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিউ মার্কেট–ফতেহাবাদ রুটে গণপরিবহন না চলায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। কর্মস্থল ও হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বের হওয়া অনেককে বাড়তি ভাড়া দিয়ে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, হিউম্যান হলারগুলো নির্ধারিত গন্তব্য পর্যন্ত না গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে একই গন্তব্যে যেতে একাধিকবার গাড়ি পরিবর্তন করতে হচ্ছে। পাশাপাশি কোথাও ৫ টাকার ভাড়া ১০ টাকা এবং ১০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
তবে চালকদের দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফিলিং স্টেশনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে নির্ধারিত সময়ে আগের মতো ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে গাড়ির মালিকদের নির্ধারিত জমাও পরিশোধ করতে হচ্ছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্ধারিত ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এক চালক বলেন, ‘উঠানামা ৫ টাকা ভাড়া গত ছয়-সাত বছর ধরে চলছে। এই সময়ে এক টাকাও ভাড়া বাড়েনি। সবকিছুর দাম বেড়েছে। ৫০০ টাকা আয় করে এখন পরিবার চালানো কঠিন। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় চালকদের ভাড়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ৩ নম্বর রুটে চলাচলকারী হিউম্যান হলারগুলো ‘ছ’ শ্রেণির যানবাহন। এসব হিউম্যান হলারের ভাড়া সর্বশেষ ২০১১ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান গ্যাস সংকটে এসব যানবাহন নিয়ে চালকরা সমস্যায় আছেন।’ পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযানে সামান্য কারণেও বাসকে জরিমানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে ‘ঠুনকো কারণে’ বাসে জরিমানা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বিআরটিএ চট্টগ্রামের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহ্ মিদা মুস্তফা বলেন, ‘আমাদের মোবাইল কোর্ট সবসময় জনস্বার্থে পরিচালিত হয়ে থাকে। কোনো জরিমানাই ঠুনকো কারণে করা হয়নি। বিস্তারিত কারণ জানতে চাইলে তা জানানো যাবে।’
এদিকে ভাড়া নিয়ে চালকদের দাবির বিষয়ে বিআরটিএর সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় চালকদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
—জা.অর্থনীতি/আরএস