Print Date & Time : 07 November 2026 Saturday 09:11 pm

লোকালয় থেকে ২০ বন্যপ্রাণী উদ্ধার

image

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: গাছের ছায়া ও নিবিড় ঝোপঝাড় পরিবেষ্টিত বনাঞ্চলই বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র। কিন্তু ক্রমাগত বন নিধন, প্রাকৃতিক রূপ পরিবর্তন ও খাদ্যের তীব্র সংকটে অস্তিত্ব রক্ষায় বাধ্য হয়ে লোকালয়ে পা বাড়াচ্ছে প্রাণীরা। শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলের বন্যপ্রাণীরা বর্তমানে এমনই আবাসন ও খাদ্য সংকটে পড়েছে।

বেসরকারি সংস্থা ‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন’-এর তথ্যমতে, গত ১ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র এক মাসে শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন বসতবাড়ি, দোকানপাট ও হাইল হাওর এলাকা থেকে অজগর, লজ্জাবতী বানর, উল্টোলেজি বানর, শঙ্খচিল, তক্ষক, শঙ্খিনী ও দাঁড়াশসহ মোট ২০টি বিচিত্র প্রজাতির বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত প্রাণীদের মধ্যে বেশ কয়েকটি আঘাতপ্রাপ্ত, অসুস্থ ও ক্লান্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেবা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বন বিভাগের উপস্থিতিতে সেগুলোকে পুনরায় নিরাপদ বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, ২ আগস্ট হাইল হাওর ও ৩ আগস্ট উত্তর ভাড়াউড়া থেকে অজগর উদ্ধার দিয়ে শুরু করে বিদায়ী আগস্টের শেষ তিন দিনেই (২৮, ২৯ ও ৩০ আগস্ট) ভাড়াউড়া, সাতগাঁও ও ইছবপুর থেকে তিনটি পৃথক অজগর উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শ্যামলী এলাকা থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট একটি বিরল উল্টোলেজি বানর এবং অন্যান্য এলাকা থেকে শকুন ও লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করা হয়।

পরিবেশকর্মীদের মতে, রিসোর্ট নির্মাণ, বসতি বিস্তার ও কৃষিজমি সম্প্রসারণের ফলে শ্রীমঙ্গলের স্বাভাবিক বনাঞ্চল ফ্র্যাগমেন্টেশন বা খণ্ডবিখণ্ড হয়ে পড়ছে। পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব জানান, লোকালয়ে প্রাণী দেখলে আতঙ্কে পিটিয়ে হত্যা করার প্রবণতা রয়েছে। তবে সঠিক সচেতনতার মাধ্যমে এদের উদ্ধার করা গেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপাক) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, "মানুষের অসংবেদনশীল দখলের কারণে প্রাণীদের প্রাকৃতিক বিচরণক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট সংরক্ষণ পরিকল্পনা ছাড়া এদের রক্ষা করা কঠিন।"

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক নিশ্চিত করেন যে, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি প্রাণীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিরাপদ সংরক্ষিত বনে অবমুক্তির আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হচ্ছে।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি