Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 02:29 pm

মৌলভীবাজারে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হাম-ডেঙ্গুর প্রকোপ

image

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ। এই দুই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে জেলার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগীর চাপ। ইতিমধ্যে জেলাজুড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১৫ জন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলার সার্বিক পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮৮৪ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে আউটডোর ও ইনডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন; যার মধ্যে ৩০ জন শিশু এবং ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় এ পর্যন্ত ৭৭৬ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ৩৭ জনের দেহে এডিস মশাবাহিত এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে জেলা সদর হাসপাতালে ৩২ জন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, কুলাউড়া উপজেলায় ১ জন এবং বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন শনাক্ত হন। বর্তমানে সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে শতাধিক হাম ও ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

হাসপাতালে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাশ। তিনি বলেন, "সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে একই সাথে হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্ত বিশাল সংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।"

পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় নজরদারির পাশাপাশি হামের মারাত্মক সংক্রমণ ঠেকাতে জরুরি প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, "হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে জেলাজুড়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হবে। এই অভিযানের আওতায় ২১ হাজার ৩৪৪ জন শিশুকে হামের প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি