Print Date & Time : 28 October 2026 Wednesday 03:36 am

১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়া কোরআন পড়ছেন আব্বাস প্রাং

image

নাটোর প্রতিনিধি: জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী বয়স ১২৩ বছর। দীর্ঘ এ জীবনে দেখেছেন ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তানি আমল ও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়লেও এবং কানে কম শুনলেও অবিশ্বাস্যভাবে চোখে চমৎকার দেখতে পান নাটোরের গুরুদাসপুরের শতবর্ষী আব্বাস প্রাং। চিকিৎসকের কোনো চশমা ব্যবহার না করেই স্পষ্ট চোখে প্রতিনিয়ত পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করছেন এই প্রবীণ।

নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে বসবাস প্রবীণ শিক্ষক আব্বাস প্রাংয়ের। কর্মজীবনে তিনি মাত্র ৬০ টাকা বেতনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করতেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি নিজ এলাকার অসংখ্য ছেলেমেয়েকে বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন তিনি। দুই মেয়ে ও ছয় ছেলের জনক এই প্রবীণ শিক্ষক বর্তমানে নাতি-বৌদের পরিচর্যায় বসবাস করছেন। পরিবারে সুনির্দিষ্ট দাবি, পরিচয়পত্রের হিসাবের চেয়ে তার প্রকৃত বয়স আরও বেশি।

ব্যক্তিগত জীবনে বেশ সাদামাটা ও সততাকে আঁকড়ে ধরা এই মানুষটি জীবদ্দশায় বিলাসিতাকে পছন্দ করেননি। যানবাহনে চড়াকে বিলাসিতা মনে করে সারা জীবন পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেছেন তিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের কাজগুলো নিজেই করতে পছন্দ করেন, এমন কি কারও সাহায্য ছাড়াই নিজের পোশাক নিজে পরিধান করেন। বর্তমানে বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল তার প্রিয় খাবার। একসময় প্রচুর অর্থ-সম্পদ থাকলেও বর্তমানে একটি ভাঙা ঘরে বাস করছেন এই শতবর্ষী।

আব্বাস প্রাংয়ের মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, "মাত্র পাঁচ বছর বয়সে আমার মা মারা যান, তারপর থেকে বাবা আমাদের গড়ে তুলেছেন। আমরা কখনো বাবাকে কারও সঙ্গে অন্যায় করতে দেখিনি। এত বয়সে বাবা কোনো চশমা ছাড়াই স্পষ্ট কোরআন শরীফ পড়েন, অথচ সন্তান হয়ে আমরা এখনই ঝাপসা দেখি।" নাতি শফিকুল ইসলাম জানান, তার দাদা অত্যন্ত ধার্মিক ও সৎ মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করেছেন।

শতবর্ষী এই প্রবীণের খোঁজখবর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানান, আব্বাস প্রাং উপজেলার অন্যতম বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি। বয়সের কারণে চলাচলে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার ঘরের সামনে বিশেষ সিঁড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া 'খুবিজপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র' তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন থেকেও নিয়মিত সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

—জা. অর্থনীতি/এলএটি