Print Date & Time : 23 October 2026 Friday 03:43 am

কানাডায় চাকরির প্রলোভনে ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, নারী গ্রেপ্তার

image

নিজস্ব প্রতিবেদক: কানাডার একটি কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভনে ২০ লাখ ১০ হাজার ৭০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চক্রের এক নারী সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার নারীর নাম নার্গিস বেওয়া ওরফে সালমা আক্তার (২৬)। তিনি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার নয়ানখাল উত্তরপাড়া এলাকার মৃত ছকমল হোসেনের মেয়ে।

মো. ছুফি উল্লাহ জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীর প্রকৃত পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার নয়ানখাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগীকে কানাডার একটি কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিদেশে পাঠানোর জন্য ৩০ লাখ টাকার মৌখিক চুক্তি করেন অভিযুক্ত নারী। পরে ২০২৫ সালের ২৮ মে থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৮৯০ টাকা এবং নগদ ও রকেটের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ২৮ হাজার ৮১০ টাকা নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২০ লাখ ১০ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি জানান, টাকা নেওয়ার পর কানাডায় যাওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করে ভুক্তভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে ওই কাগজপত্র নিয়ে কানাডা দূতাবাসে যোগাযোগ করলে যাচাই-বাছাইয়ের পর সেগুলো ভুয়া বলে জানানো হয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী গত বছরের ৭ নভেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় মামলা করেন।

মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, তদন্তে পাওয়া গেছে, গ্রেপ্তার নারীসহ চক্রের অন্য সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে ভুয়া ও জাল কাগজপত্র তৈরি করতেন। পরে সেগুলো আসল হিসেবে ব্যবহার করে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন। গ্রেপ্তার নারী নিজের প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, মামলার তথ্য বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই নারীর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি আত্মসাৎ করা অর্থের সম্পূর্ণ পরিমাণ, অর্থের গতিপথ এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

—জা.অর্থনীতি/আরএস