অনলাইন ডেস্ক: দেশের গুদামে সারের পর্যাপ্ত মজুদ, অথচ মাঠে গিয়ে সেই সারই পাচ্ছেন না কৃষক! কোথাও বরাদ্দের তুলনায় সরবরাহ কম, কোথাও সার কিনতে গুনতে হচ্ছে নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি। এর জেরে সড়ক অবরোধ, গুদাম ভাঙচুর, সারবাহী ট্রাক আটক- এমনকি কৃষকের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে। প্রশ্ন উঠেছে, জাতীয় পর্যায়ে ১২ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন সার মজুদ থাকার পরও কেন কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে না প্রয়োজনীয় সার?
২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে রাসায়নিক সারের চাহিদা ৬৮ থেকে ৬৯ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে জেলা পর্যায়ে বরাদ্দ প্রায় ৫৮ লাখ ২০ হাজার টন। সাতটি রাষ্ট্রীয় সারকারখানার বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা ৩৭ লাখ টনের বেশি হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৬ হাজার টন। ফলে সারের চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি আমদানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ।
সরকারের দাবি, জাতীয় পর্যায়ে সারের সংকট নেই। তবে কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। ১ হাজার ৩০ টাকার টিএসপি প্রায় ২ হাজার টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৪০০ এবং এমওপি ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লালমনিরহাট, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ে সার বিতরণকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ, গুদাম ভাঙচুর, সারবাহী ট্রাক আটক ও হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন জাতীয় অর্থনীতিকে বলেন, সার সরবরাহে কিছু ডিলারের যেমন গাফিলতি ছিল তেমনি সরকারেরও গাফিলতি ছিল। সার পাচারসহ বিভিন্ন কারণে সরকার সরবরাহব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি করছে। সরকারের এই অতিরিক্ত কড়াকড়ির কারণে কম চাহিদার জেলা থেকে ডিলারদের নিজ উদ্যোগে বেশি চাহিদার জেলায় সার নিয়ে বিক্রির প্রচলিত ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে। এতেও সরবরাহব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার যোগসাজশে সার বেশি দামে বিক্রি, কৃত্রিম সংকট তৈরি, পাচার এবং ভর্তুকির সার তামাক, চা, মাছ ও শিল্প উৎপাদনে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সারসংকটের গুজবে কৃষকদের আগাম মজুদও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।
সারকারখানায় কম উৎপাদন, আমদানিনির্ভরতা এবং নতুন ডিলার নীতিমালা বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতার কারণে সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামনে রবি ও বোরো মৌসুম। তাই শুধু গুদামে সার মজুদ নয়, কৃষকের হাতে সময়মতো সার পৌঁছানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সংকট মোকাবিলায় চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ, সরবরাহে নজরদারি, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি ও পাচার বন্ধের সুপারিশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, গুদামে সার থাকলেই হবে না- সঠিক সময়ে সঠিক দামে তা পৌঁছাতে হবে কৃষকের জমিতে।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি