Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 01:42 am

বৃষ্টিতে কোন সুন্নাত আমল করবেন?

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক:

 

আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেছে, শুরু হয়েছে বৃষ্টি, এ সময় একজন মুসলমানের কী করা উচিত? বৃষ্টি শুধু প্রকৃতির একটি ঘটনা নয়, ইসলামে এটিকে আল্লাহর রহমতের সঙ্গেও যুক্ত করা হয়েছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃষ্টির সময় বিশেষ দোয়া পড়েছেন এবং বৃষ্টির উপকার কামনা করেছেন। আবার অতিরিক্ত বৃষ্টি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করলে তিনি আল্লাহর কাছে বৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার দোয়াও করেছেন। বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ায় নবীজির শেখানো আমল ও দোয়াগুলো কী?

বৃষ্টি নামছে, আকাশ মেঘে ঢাকা। এমন সময়ে অনেকেই বৃষ্টিকে শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তন হিসেবে দেখেন। কিন্তু একজন মুসলমানের কাছে বৃষ্টি আল্লাহর একটি নিয়ামত এবং রহমতের নিদর্শন হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৃষ্টির সময় আল্লাহর কাছে কল্যাণ ও উপকারের জন্য দোয়া করেছেন।

সহিহ বুখারি ও অন্যান্য হাদিসের বর্ণনায় এসেছে, বৃষ্টি শুরু হলে নবীজি বলতেন, “আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআন”অর্থাৎ, “হে আল্লাহ, এই বৃষ্টিকে উপকারী বৃষ্টি করুন।“ তাই বৃষ্টি শুরু হলে এই দোয়াটি পড়া যায়।

বৃষ্টির সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আল্লাহর কাছে দোয়া করা। হাদিসে বৃষ্টির সময় দোয়া কবুল হওয়ার একটি বিশেষ সময়ের কথা বর্ণিত হয়েছে। তাই বৃষ্টি নামলে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং সবার কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যেতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, বৃষ্টি যদি অতিরিক্ত হয়ে যায়?

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যখন অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মানুষের কষ্ট হচ্ছিল। তখন তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন, “আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা অর্থাৎ, “হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপর নয়।”

এরপর তিনি আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার জন্য দোয়া করেছিলেন। এখানে ইসলামের একটি সুন্দর ভারসাম্য দেখা যায়। বৃষ্টি প্রয়োজন হলে আল্লাহর কাছে উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া করা, আর বৃষ্টি ক্ষতির কারণ হলে ক্ষতি দূর করার জন্য দোয়া করা।

মেঘলা আকাশ দেখলেই নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ দোয়া পড়তেই হবে-এমন সহিহ নির্দেশ পাওয়া যায় না। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত যেকোনো দোয়াকে নবীজির সুন্নাত হিসেবে প্রচার করার আগে তার সূত্র যাচাই করা জরুরি।

বৃষ্টির সময় আরেকটি আমল হলো আল্লাহর নিয়ামতের কথা স্মরণ করা এবং কৃতজ্ঞ হওয়া।

বৃষ্টি কৃষি, নদী, পুকুর ও পানির উৎসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই নিয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা একজন মুসলমানের সুন্দর অভ্যাস হতে পারে।  বৃষ্টির সময় নিজের প্রয়োজনের জন্যও দোয়া করা যায়। হালাল রিজিক, সুস্থতা, পরিবারের নিরাপত্তা, গুনাহ থেকে ক্ষমা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ, সবকিছুই আল্লাহর কাছে চাওয়া যায়। তবে দোয়া করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তরিকতা। শুধু মুখে দোয়া পড়া নয়, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নিজের প্রয়োজন তার কাছে তুলে ধরাই মূল বিষয়।

তাই মেঘলা আকাশ দেখলে আতঙ্ক নয়, আল্লাহর কুদরত স্মরণ করা, বৃষ্টি নামলে উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া করা, আর অতিবৃষ্টি ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করলে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া, এসবই হতে পারে একজন মুসলমানের সুন্দর আমল। প্রকৃতির প্রতিটি পরিবর্তনই আমাদের জন্য হতে পারে আল্লাহকে স্মরণ করার একটি সুযোগ।

বৃষ্টি নামলে এই দোয়াটি পড়ুন

বৃষ্টি শুরু হলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন, “আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআন”অর্থাৎ, “হে আল্লাহ, এই বৃষ্টিকে উপকারী বৃষ্টি করুন।” হাদিসে বৃষ্টির সময় দোয়া করার বিশেষ গুরুত্বও এসেছে। তাই বৃষ্টি নামলে নিজের ও পরিবারের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা যায়। আর অতিবৃষ্টি ক্ষতির কারণ হলে নবীজি পড়েছেন, “আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা”অর্থাৎ, “হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপর নয়।”

অতিবৃষ্টিতে নবীজি কী দোয়া করতেন?

বৃষ্টি শুধু আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, একজন মুসলমানের জন্য আল্লাহর রহমত স্মরণেরও একটি সময়। বৃষ্টি শুরু হলে উপকারী বৃষ্টির জন্য দোয়া করা সুন্নাত। আর অতিবৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কা হলে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চাওয়া যায়। তবে মেঘলা আবহাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত যেকোনো দোয়াকে নবীজির সুন্নাত বলা ঠিক নয়। তাই নির্ভরযোগ্য হাদিসে বর্ণিত দোয়াগুলোই পড়া উচিত। বৃষ্টির সময় নিজের, পরিবারের এবং সবার কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করাও সুন্দর আমল।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি