জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু উড্ডয়নের পরই দেখা দেয় বিপত্তি। উড়োজাহাজের পেছনের একটি চাকায় ত্রুটি ধরা পড়ে। মুহূর্তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। পাইলট পাঠান জরুরি বার্তা। শুরু হয় নিরাপদে অবতরণের প্রস্তুতি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ রাখা হয় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে।
কিন্তু কী ঘটেছিল আকাশে? কেন উড়োজাহাজটিকে চক্কর দিতে হয়েছিল? আর শেষ পর্যন্ত কীভাবে অবতরণ করল বিমানটি?
ঘটনাটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৪৩৬-এর। শনিবার (১০ অক্টোবর) কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা উড়োজাহাজটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর এস২-একেই।
বিমানবন্দর ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের পরপরই উড়োজাহাজটির একটি চাকায় ত্রুটি দেখা দেয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ঢাকার টাওয়ারে জরুরি বার্তা পাঠান পাইলট।
এরপর শুরু হয় উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে অবতরণ করানোর প্রস্তুতি। এমন পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজের ওজন কমানো এবং অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এদিকে বিমানবন্দরেও নেওয়া হয় বাড়তি সতর্কতা। জরুরি অবতরণের জন্য প্রস্তুত করা হয় প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা।
জরুরি অবতরণের আগে উড়োজাহাজটিকে কিছু সময় আকাশে চক্কর দিতে হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় উড়োজাহাজটি টাঙ্গাইলের নাগরপুর ও দেলদুয়ার এলাকার আকাশে কয়েকবার চক্কর দেয়।
তখন উড়োজাহাজটির উচ্চতা ছিল প্রায় ৬ হাজার ১০০ ফুট। গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৮৮ নট।
এই সময়টিতে পাইলটের সামনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল উড়োজাহাজটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিরাপদ অবতরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।
আকাশে চক্কর দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই ফ্লাইটটির গতিবিধি নিয়ে তৈরি হয় আগ্রহ। তবে উড়োজাহাজের চাকায় ঠিক কী ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুরু হয় জরুরি অবতরণের প্রস্তুতি।
নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় রানওয়ে। ঢাকা টাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রানওয়েটি বন্ধ ছিল। এ সময় সব ধরনের ফ্লাইটের উড্ডয়ন ও অবতরণ স্থগিত রাখা হয়।
রানওয়েতে প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও জরুরি সেবার দল।
উড়োজাহাজটি অবতরণের সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই ছিল এই প্রস্তুতি।
একটি উড়োজাহাজের জরুরি অবতরণ শুধু পাইলটের দক্ষতার বিষয় নয়; বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষ, উদ্ধারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বয়ও এখানে ছিলো গুরুত্বপূর্ণ।
সব প্রস্তুতি শেষে আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত-অবতরণ।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজটি শেষ পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
স্বস্তির খবর হলো, এ ঘটনায় উড়োজাহাজে থাকা কোনো যাত্রী বা ক্রু আহত হননি। অর্থাৎ, চাকায় ত্রুটি ধরা পড়ার পর যে পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত বড় কোনো দুর্ঘটনায় রূপ নেয়নি।
জরুরি অবতরণের কারণে রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও উড়োজাহাজটির নিরাপদ অবতরণই ছিল তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তবে চাকাটির ত্রুটির প্রকৃতি, সেটি কীভাবে ধরা পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে কী ধরনের কারিগরি পরীক্ষা করা হয়েছে-এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৪৩৬-এর জরুরি অবতরণের ঘটনায় বড় কোনো হতাহতের খবর নেই। তবে উড়োজাহাজটির চাকায় ত্রুটির কারণ এবং পরবর্তী কারিগরি পরীক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে জানা যাবে, ঠিক কী কারণে তৈরি হয়েছিল এই পরিস্থিতি।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি