জাতীয় অর্থনীতি বিনোদন: হলিউড অভিনেতা রিচার্ড গিয়ারকে নিয়ে গত চার দশক ধরে চলা এক অদ্ভুত ও কুরুচিপূর্ণ গুঞ্জন আজও নেটদুনিয়ায় ঘুরে বেড়ায়। এই কিংবদন্তি অভিনেতাকে নিয়ে রটে যাওয়া সেই কাল্পনিক গল্প কীভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে স্থায়ী ও ভাইরাল মিমে পরিণত হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন অনুসন্ধান।
মূলত আশির দশকের কোনো একসময়ে রটেছিল যে, লস অ্যাঞ্জেলেসের সিডার্স-সিনাই মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগে ভর্তি হতে হয়েছিল রিচার্ড গিয়ারকে। সেখানে তার মলদ্বারে একটি জারবিল জাতের ছোট ইঁদুর বা পোষা প্রাণী আটকে গিয়েছিল, যা তিনি যৌন আনন্দের জন্য ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ বা চিকিৎসকদের সত্যতা না থাকলেও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া গল্পটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক রূপ নেয়। এমনকি আধুনিক ইন্টারনেটের যুগেও বিভিন্ন পডকাস্ট, স্ট্যান্ড-আপ কমেডি কিংবা রাজনৈতিক বিরোধিতায় রিচার্ডকে আক্রমণ করতে এই কাল্পনিক ঘটনার প্রসঙ্গ টানা হয়। সম্প্রতি মার্কিন রাজনীতিতে সরকারের সমালোচনার মুখে পড়ে হোয়াইট হাউসের এক যোগাযোগ কর্মকর্তা ফের এই পুরোনো গুঞ্জনের অবতারণা করেন।
সাংবাদিক অ্যালেন স্যালকিন দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এই নগর-কিংবদন্তির উৎস ও মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তি নিয়ে গভীর গবেষণা করেছেন। তার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই অদ্ভুত গুঞ্জনের নেপথ্যে রয়েছে হলিউড তারকাদের ঘিরে সাধারণ মানুষের একধরনের অবদমিত কৌতূহল এবং সেসময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপট।
আশির দশকে ‘আমেরিকান গিগলো’ বা ‘সেন্ট’-এর মতো ছবিতে রিচার্ডের বিশেষ চরিত্র এবং অভিনেতা রক হাডসনের এইডস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ফলে সমকামিতা নিয়ে সমাজে এক ধরনের ভয় ও সংশয় কাজ করত। সেই মনস্তাত্ত্বিক জায়গা থেকেই সেলিব্রিটিদের ব্যক্তিগত জীবনকে কলুষিত করার প্রবণতা থেকে এই কাল্পনিক ও মানহানিকর গল্পের জন্ম হয়। যদিও এর কোনো সত্যতা নেই, তবুও মানুষের কুৎসিত কৌতূহল ও মিমের যুগে এটি আজও অম্লান রয়ে গেছে।
জা. অর্থনীতি/এআর