Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 12:52 am

তওবা কবুল হওয়ার লক্ষণ কী? (ভিডিও)

image

জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: গুনাহ করার পর তওবা করলেন, কিন্তু কীভাবে বুঝবেন আপনার তওবা কবুল হয়েছে? শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বললেই কি তওবা পূর্ণ হয়ে যায়? ইসলামে তওবা মানে শুধু ক্ষমা চাওয়া নয়, বরং গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে সত্যিকারের ফিরে আসা। তাহলে খালেস তওবার শর্ত কী এবং তওবা কবুল হওয়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলোই বা কী? চলুন জেনে নেওয়া যাক কোরআন ও হাদিসের আলোকে।

মানুষ ভুল করে, গুনাহ করে। কিন্তু ইসলামের সৌন্দর্য হলো, গুনাহ করার পরও আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ হয়ে যায় না। বরং কোরআনে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাঁর রহমত থেকে নিরাশ না হতে বলেছেন।

 

তবে তওবা মানে শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়া নয়। খালেস তওবা হলো এমন তওবা, যেখানে একজন মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারেন, গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হন এবং সেই গুনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে আসেন।
খালেস তওবার প্রথম শর্ত হলো, গুনাহ ছেড়ে দেওয়া।

কেউ যদি মুখে তওবা করেন, কিন্তু একই গুনাহ ইচ্ছাকৃতভাবে চালিয়ে যেতে থাকেন, তাহলে তওবার দাবি দুর্বল হয়ে যায়। তাই তওবার সঙ্গে গুনাহ থেকে ফিরে আসার বাস্তব চেষ্টা থাকতে হবে।

দ্বিতীয় শর্ত অন্তর থেকে অনুতপ্ত হওয়া।

নিজের করা ভুলের জন্য সত্যিকারের লজ্জা ও অনুশোচনা তৈরি হওয়া তওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শুধু শাস্তির ভয় নয়, আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার জন্য নিজের ভেতরে অনুতাপ তৈরি হওয়াই মূল বিষয়।

তৃতীয় শর্ত, আবার সেই গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প। তওবার সময় একজন মানুষকে অন্তর থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তিনি আর সেই গুনাহে ফিরে যেতে চান না। তবে ভবিষ্যতে দুর্বলতার কারণে কেউ আবার একই গুনাহ করে ফেললে আগের তওবা অর্থহীন হয়ে গেল, এমন কথা বলা ঠিক নয়। বরং আবারও আন্তরিকভাবে তওবা করতে হবে এবং গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে হবে।

চতুর্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে মানুষের হক। গুনাহটি যদি অন্য কোনো মানুষের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলেই বিষয়টি শেষ হয় না।

কারও টাকা আত্মসাৎ করলে তা ফেরত দিতে হবে। কারও অধিকার নষ্ট করলে সম্ভব হলে তা সংশোধন করতে হবে। কারও প্রতি অন্যায় করলে ক্ষমা চাওয়া বা ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করতে হবে। এবার প্রশ্ন, তওবা কবুল হয়েছে কি না, কীভাবে বুঝব? এখানে সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো ব্যক্তি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন না যে তার তওবা আল্লাহ কবুল করেছেন। কারণ কবুলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে। তবে তওবার পর কিছু আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।

গুনাহের প্রতি আগের আকর্ষণ কমে যাওয়া, ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়া, নিজের ভুল নিয়ে অহংকার না করা, আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পাওয়া এবং আবার গুনাহে ফিরে না যাওয়ার চেষ্টা, এসব তওবার ইতিবাচক লক্ষণ হতে পারে।
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো—মানুষ নিজের আমল নিয়ে অহংকার না করে আল্লাহর রহমতের ওপর আশা রাখা।

কারণ তওবা করার পরও একজন মুমিন মনে রাখবেন, তিনি আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী। তওবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জটিল আয়োজন প্রয়োজন নেই। একান্তে আল্লাহর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করুন, আন্তরিকভাবে ক্ষমা চান, গুনাহ ছেড়ে দিন এবং ভবিষ্যতে তা থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় সংকল্প করুন। সহজভাবে বলা যায়, গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, অনুতপ্ত হওয়া, আর ফিরে না যাওয়ার সংকল্প করা এবং মানুষের অধিকার থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া, এটাই খালেস তওবার মূল পথ।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তওবা করার জন্য ‘সঠিক সময়’ খুঁজতে গিয়ে দেরি করবেন না। কারণ মানুষ জানে না, তার জীবনে আর কতটা সময় বাকি। আজ যে ভুলের জন্য চোখে পানি আসছে, আজই আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ।

খালেস তওবা শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার নাম নয়। গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, নিজের ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা তওবার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। আর গুনাহের সঙ্গে যদি অন্য মানুষের অধিকার জড়িত থাকে, তাহলে সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে বা ক্ষতি পূরণের চেষ্টা করতে হবে। তওবা কবুল হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে কেউ বলতে পারেন না। তবে গুনাহের প্রতি অনীহা এবং ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়া আশাব্যঞ্জক লক্ষণ হতে পারে।

গুনাহ হয়ে গেছে বলে আল্লাহর রহমত থেকে কখনো নিরাশ হবেন না। খালেস তওবার জন্য প্রথমে গুনাহটি ছেড়ে দিন, তারপর অন্তর থেকে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান এবং আর সেই গুনাহে ফিরবেন না বলে দৃঢ় সংকল্প করুন। যদি কারও অধিকার নষ্ট করে থাকেন, সেটিও সংশোধন করতে হবে। তওবা কবুল হওয়ার চূড়ান্ত বিষয় আল্লাহই জানেন। তবে তওবার পর যদি আপনার আচরণ বদলাতে শুরু করে, গুনাহ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা বাড়ে এবং ভালো কাজের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়, সেটি হতে পারে আশার বিষয়।  

—জা. অর্থনীতি/এলএটি