কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে মনছুর আলী (৬০) নামের পৌরসভার এক কর্মচারীকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন তার স্ত্রী মল্লিকা বেগম (৫৫)। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে জেলা শহরের ব্যস্ততম কলেজ মোড় এলাকায় পৌর টাউন হলের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ঘাতক যুবককে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
নিহত মনছুর আলী পৌর শহরের বাস টার্মিনালসংলগ্ন ছয় আনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কুড়িগ্রাম পৌরসভার একজন কর্মরত কর্মচারী ছিলেন। আহত তার স্ত্রী মল্লিকা বেগমকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে; সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার চিকিৎসা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে পৌর টাউন হলের প্রধান ফটকের সামনে হঠাৎ করেই মনছুর আলীর সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই যুবক পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে মনছুর আলীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি উপুর্যুপুরি আঘাত করতে থাকেন। স্বামীর জীবন বাঁচাতে স্ত্রী মল্লিকা বেগম দ্রুত এগিয়ে এলে লম্পট যুবক তাকেও ছুরিকাঘাত করে জখম করে। দম্পতির আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনছুর আলীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম শাহনেওয়াজ সানি। তার বাড়ি পৌর শহরের সরদারপাড়া এলাকায়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন সাহসিকতার সঙ্গে ধাওয়া করে ঘাতক সানিকে আটক করেন এবং পুলিশে খবর দিয়ে তাদের হাতে সোপর্দ করেন।
ওসি জানান, "খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ঘাতক যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।"
—জা. অর্থনীতি/এলএটি