জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: একটি ফেসবুক পোস্ট, একটি প্রত্যাশা, আর শেষ পর্যন্ত আমন্ত্রণ বাতিল! ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত শোবিজ অঙ্গন। আগামী ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা CFVA চট্টগ্রাম ফ্যাশন ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড ২০২৬। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল পরীমনিরও। কিন্তু ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের প্রতিবাদে অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়েছেন এই অভিনেত্রী। কেন এমন সিদ্ধান্ত? কী বলছেন আয়োজকরা? আর এই ঘটনা পরীমনির ক্যারিয়ারে কী বার্তা দিচ্ছে? বিস্তারিত থাকছে আমাদের আজকের প্রতিবেদনে।
চট্টগ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি যেন শুরুই করে দিয়েছিলেন পরীমনি। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে CFVA অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের একটি পোস্টার শেয়ার করে লিখেছিলেন ‘দেখা হচ্ছে প্রিয় চট্টগ্রাম।’
পোস্টার অনুযায়ী, আগামী ২৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এই আয়োজন। পোস্টারে পরীমনির পাশাপাশি দেশের বিনোদন অঙ্গনের আরও কয়েকজন পরিচিত মুখের ছবি ছিল।
সবকিছু ঠিক থাকলে এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল তার। কিন্তু এরই মধ্যে বদলে যায় পরিস্থিতি।
এই বিতর্কের সূত্রপাত ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণের একটি ঘটনা থেকে।
গত ৫ নভেম্বর একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক সাংবাদিককে গালিগালাজ এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ তৈরি হয়।
পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের মধ্যেও এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ, অনুষ্ঠান বয়কট এবং প্রতিহতের ঘোষণার খবর প্রকাশিত হয়।
তাদের আপত্তির মূল জায়গা ছিল- সাংবাদিকের সঙ্গে এমন ঘটনার পরও কেন একজন শিল্পীকে বড় একটি আয়োজনে আমন্ত্রণ জানানো হবে?
অতঃপর আয়োজকদের সিদ্ধান্ত
সাংবাদিকদের এই প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত অবস্থান পরিবর্তন করেন আয়োজকরা।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়োজক কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, সাংবাদিকের সঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণের ঘটনার আগেই পরীমনির সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী পরিস্থিতি এবং চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের প্রতিবাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধু তাই নয়, পরীমনির ছবি বাদ দিয়ে নতুন পোস্টার প্রকাশের কথাও উঠে এসেছে সংবাদ প্রতিবেদনে।
অর্থাৎ, যে অনুষ্ঠানের প্রচারণায় একসময় পরীমনির উপস্থিতি ছিল, সেই আয়োজন থেকেই এখন সরিয়ে নেওয়া হলো তার নাম ও ছবি।
এই ঘটনা শুধু একটি অনুষ্ঠান থেকে একজন অভিনেত্রীর বাদ পড়ার ঘটনা নয়। এটি তারকাদের ব্যক্তিগত আচরণ, পেশাগত সম্পর্ক এবং জনপরিসরে দায়িত্বশীলতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
একজন জনপ্রিয় শিল্পীর ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে সমালোচনা হতেই পারে। আবার কোনো ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর অধিকারও রয়েছে সাংবাদিকদের।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিবাদের মুখে কোনো শিল্পীকে অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়াই কি সমস্যার সমাধান? নাকি সংশ্লিষ্ট ঘটনার বিষয়ে শিল্পীর বক্তব্য শোনা এবং দুই পক্ষের অবস্থান সামনে আনা আরও জরুরি?
পরীমনির পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠান থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আয়োজকদের সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের বক্তব্যও সামনে আসা প্রয়োজন।
ক্যারিয়ারে কি প্রভাব পড়বে?
পরীমনি বরাবরই আলোচনায় থাকা একজন অভিনেত্রী। কখনো অভিনয়, কখনো ব্যক্তিগত জীবন, আবার কখনো নানা বিতর্কে তাকে ঘিরে তৈরি হয় আলোচনা।
কিন্তু এবার বিষয়টি সরাসরি তার পেশাগত অংশগ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলল। একটি বড় আয়োজন থেকে বাদ পড়া নিঃসন্দেহে তার জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
তবে এটিকে তার পুরো ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী ঘটনা বলার সময় এখনো আসেনি। বরং সামনে তার প্রতিক্রিয়া, আয়োজকদের অবস্থান এবং এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপথই নির্ধারণ করবে আলোচনার মোড়।
সব মিলিয়ে, ‘দেখা হচ্ছে প্রিয় চট্টগ্রাম’ - এই প্রত্যাশার জায়গায় এখন তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত এই বিতর্কে পরীমনি কী বলবেন? অপেক্ষা এখন সেই উত্তরের।
—জা. অর্থনীতি/এলএটি