Print Date & Time : 08 November 2026 Sunday 03:22 pm

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের ঘটনায় আরও ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

image

জাতীয় অর্থনীতি আন্তর্জাতিক: ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে জানুয়ারির বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া আরও তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার পর রোববার ভোরে এ দণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিরা হলেন হাসান দিববন্দ, হামিদ কাজেমি ও রেজা জানগানেহ। ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ‘শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠীর’ পক্ষে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড ও সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছিল।

বিচার বিভাগের অভিযোগ, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় তাঁরা সরকারি ও জনসাধারণের স্থাপনায় হামলা, সম্পদ ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ক্ষতিসাধন এবং বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, আলবোরজ প্রদেশের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১১ জানুয়ারি হাসান দিববন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে জনসম্পদে আগুন দেওয়া এবং অন্যদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার অভিযোগ আনা হয়।

পরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এবং দিববন্দের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাজের বিপ্লবী আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্য আট আসামিকে পাঁচ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া এখনো চলমান বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও আবদোররহমান বোরুমান্দ সেন্টার গত সেপ্টেম্বরে এক পর্যালোচনায় অভিযোগ করে, ভিন্নমত দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিচার, নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা স্বীকারোক্তি এবং প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তাদের পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট ২৯টি মৃত্যুদণ্ডের মামলার মধ্যে ১৬টিতে কাউকে হত্যার অভিযোগও ছিল না।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের অক্টোবরে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারির বিক্ষোভের পর থেকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট মামলায় ইরানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে বিক্ষোভ ও যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগও রয়েছে। একই সময়ে আরও ১৯০ জন মৃত্যুদণ্ডের মুখে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মানবাধিকার সংগঠন ও কর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৭০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৫ জনের মামলা জানুয়ারির বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট, ৯ জনের মামলা ১২ দিনের ও ৪০ দিনের যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট এবং বাকি ২৬ জনের মামলা অন্যান্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ছিল।

তবে মানবাধিকার সংগঠন ও কর্মীরা বলছেন, এসব সংখ্যা ন্যূনতম হিসাব। কেবল প্রকাশ্যে আসা ও যাচাই করা ঘটনাগুলোই এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। 

—জা. অর্থনীতি/এএইচএ