জাতীয় অর্থনীতি ডেস্ক: একটি উপন্যাসের চরিত্র কীভাবে লেখকের মৃত্যুর বহু বছর পরও গোটা পৃথিবীর সংস্কৃতিতে রাজত্ব করতে পারে? শুধু বইয়ের পাতায় নয়, সিনেমা, টেলিভিশন, নাটক, এমনকি মানুষের পোশাক ও উৎসবেও জায়গা করে নিতে পারে! এমনই এক চরিত্রের নাম ড্রাকুলা। আর এই বিখ্যাত চরিত্রের স্রষ্টা ব্রাম স্ট্রোকার।
১৮৪৭ সালের ৮ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের ক্লনটার্ফে জন্মগ্রহণ করেন আব্রাহাম ব্রাম স্ট্রোকার। ছোটবেলায় তিনি দীর্ঘদিন অজানা অসুস্থতায় শয্যাশায়ী ছিলেন। প্রায় সাত বছর বয়স পর্যন্ত ঠিকমতো হাঁটতে পারতেন না। পরে সুস্থ হয়ে ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজে পড়াশোনা করেন। সেখানে গণিত বিষয়ে শিক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও দক্ষতা দেখান। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সরকারি চাকরি করেন, পাশাপাশি সংবাদপত্রে থিয়েটার সমালোচনাও লিখতেন।
১৮৭৮ সালে তিনি লন্ডনে গিয়ে বিখ্যাত অভিনেতা হেনরি আরভিংয়ের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। লাইসিয়াম থিয়েটারের ব্যবস্থাপক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এই কাজের সুবাদে সে সময়ের শিল্পী, লেখক ও সংস্কৃতিজগতের বহু মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। তবে তার নাম বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অন্য এক কারণে।
১৮৯৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘ড্রাকুলা’। সাত বছর ধরে গবেষণা ও লেখালেখির পর তৈরি এই বইয়ের গল্প এগিয়েছে চিঠি, ডায়েরি, সংবাদপত্রের কাটিং এবং বিভিন্ন চরিত্রের বিবরণের মাধ্যমে। এর কেন্দ্রে রয়েছে কাউন্ট ড্রাকুলা নামের এক রহস্যময় ভ্যাম্পায়ার, যে মানুষের রক্ত পান করে এবং অন্ধকারে বিচরণ করে।
ড্রাকুলা চরিত্র তৈরিতে পূর্ব ইউরোপের লোককথা, ভ্যাম্পায়ার নিয়ে প্রচলিত বিশ্বাস এবং ঐতিহাসিক নানা তথ্যের প্রভাব ছিল। ট্রান্সিলভানিয়ার রহস্যময় পরিবেশ উপন্যাসটির আবহকে আরও গাঢ় করেছে। ঐতিহাসিক ভ্লাদ দ্য ইমপেলার বা ভ্লাদ তৃতীয়ের সঙ্গে ড্রাকুলার নামের যোগসূত্র নিয়েও আলোচনা আছে। তবে উপন্যাসের ভ্যাম্পায়ারকে ওই শাসকের সরাসরি জীবনী বলা ঠিক নয়।
প্রকাশের পর উপন্যাসটি পাঠকের আগ্রহ পায়, আর সময়ের সঙ্গে ড্রাকুলা বইয়ের পাতা ছাড়িয়ে মঞ্চ ও পর্দায় জায়গা করে নেয়। ১৯২২ সালের নির্বাক চলচ্চিত্র ‘নসফেরাতু’সহ অসংখ্য চলচ্চিত্র ও নাট্যরূপ ভ্যাম্পায়ার চরিত্রটিকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরবর্তী সময়ে ড্রাকুলার পোশাক, ধারালো দাঁত, কালো চাদর এবং রক্তপানের ধারণা জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে পরিচিত প্রতীকে পরিণত হয়।
স্ট্রোকারের আগে ভ্যাম্পায়ার নিয়ে গল্প ছিল, কিন্তু ড্রাকুলা সেই বিচ্ছিন্ন ধারণাগুলোকে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সাহিত্যিক চরিত্রে পরিণত করে। পরবর্তী লেখক ও নির্মাতারা তাঁর ছাঁচ অনুসরণ করেছেন, আবার ভেঙেও নতুন ভ্যাম্পায়ার হাজির করেছেন। তাই ড্রাকুলা শুধু ভয় দেখায় না, মানুষের ভয় ও কল্পনাকেও তুলে ধরে।
১৯১২ সালের ২০ এপ্রিল লন্ডনে মারা যান ব্রাম স্ট্রোকার। কিন্তু তার সৃষ্টি আজও নতুন সিনেমা, বই ও বিনোদনমাধ্যমে ফিরে আসে। একজন লেখকের কল্পনা কীভাবে শতাব্দী পেরিয়ে বিশ্বসংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠতে পারে, ড্রাকুলা তারই বড় উদাহরণ।
একটি উপন্যাসের চরিত্র কীভাবে শত বছর ধরে মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে রাখতে পারে? বলছি ড্রাকুলার কথা। এই বিখ্যাত ভ্যাম্পায়ার চরিত্রের স্রষ্টা ব্রাম স্ট্রোকার। ১৮৪৭ সালের ৮ নভেম্বর আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই লেখকের উপন্যাস ড্রাকুলা প্রকাশিত হয় ১৮৯৭ সালে। পূর্ব ইউরোপের লোককথা ও ভ্যাম্পায়ার নিয়ে প্রচলিত বিশ্বাস থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি তৈরি করেন রহস্যময় কাউন্ট ড্রাকুলাকে। পরে সিনেমা, নাটক ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে এই চরিত্র হয়ে ওঠে অমর। ১৯১২ সালে লেখকের মৃত্যু হলেও ড্রাকুলার গল্প আজও শেষ হয়নি!
—জা. অর্থনীতি/এলএটি